সাইফুল আলম হিরন, জেলা প্রতিনিধি, ফেনী, :
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রান্নাঘরসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিন সদস্যের গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি কখনো কাম্য নয়। হাসপাতালের সুনাম ও প্রসূতিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ঘটনার তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে শুধুমাত্র রান্নাবান্নার বিষয় নয়, আরও কোনো অনিয়ম আছে কিনা সেটিও দেখা হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কমিটির সদস্যদের আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. জামাল হোসেন। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শোয়েব ইমতিয়াজ এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. আদনান আহমেদ।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের কয়েকজন নার্স অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে গ্যাসের চুলায় পিঠা তৈরি করছেন, অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজন ও বহিরাগতদের অবাধে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর সঙ্গে জড়িত নার্সদের মধ্যে রয়েছেন- নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান, কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম।
আবু জাহিদ নামে রোগীর এক স্বজন বলেন, এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় দিনের পর দিন এ অব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য উদ্বেগের। জড়িত নার্সদের পাশাপাশি এখানে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষেরও দায় রয়েছে। তাদের দায়সারা কাজের কারণেই হাজারো মা-বোন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সেবা গ্রহীতা প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ- হাসপাতালের গাইনি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. তাহিরা খাতুন রোজী, ডা. নিলুফা সুলতানা ও ডা. তাহমিনা আক্তার। দীর্ঘদিন ধরে লেবার ওয়ার্ডে এসব অনিয়মের ব্যাপারে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত। বিভিন্ন সময়ে এখানে নার্সদের তৈরি করা বিরিয়ানি, শীতের পিঠাসহ নানা খাবার গ্রহণ করেন স্বয়ং চিকিৎসকরাও। এসব আয়োজনে ব্যস্ত থাকায় ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন প্রসূতি রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পান না। অনেক সময় রোগীর স্বজনরা নার্সদের সহায়তার জন্য ডাকলেও তারা ক্ষেপে যান।
ফাহমিদা তাসনিম নামে আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা একপ্রকার অসহায়ত্ব নিয়েই এসব পরিস্থিতি দেখেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এ অব্যবস্থাপনার দায় এড়াতে পারে না।
রোগী কানিজ ফাতেমা বলেন, যারা আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন আর সতর্ক থাকার কথা তাদের কাছেই আমরা অনিরাপদ।
এ অভিযোগ প্রসঙ্গে দায়িত্বরত নার্সদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না হাসপাতালের আরএমও’র সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
অভিযোগ বিষয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা বলেন, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে রান্নাবান্না অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে রান্নাবান্না করলে সংক্রমণের অনেক বিষয় রয়েছে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
জানতে চাইলে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্না করার কোন সুযোগ নেই। এতে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।

