ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামের একটি বেসরকারি ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা প্রসেসিং এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে প্রতিশ্রুত সেবা প্রদান করেনি। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, এভাবে কয়েক শ গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বিপ্লব ভট্টাচার্য। শুরুতে বিশ্বাস অর্জনের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হলেও, এক পর্যায়ে টাকা ফেরত বা সেবা চাওয়ার পর যোগাযোগে গড়িমসি দেখা দেয়। অনেকের অভিযোগ, সময় দিতে দিতে হঠাৎ করেই ফোন বন্ধ, মেসেজের উত্তর না দেওয়া এবং অফিস কার্যত দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় অনলাইনে এ ধরনের বহু বহু স্ক্যাম বিপ্লব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পাওয়া যাচ্ছে। অনুসন্ধানে আরো একটি তথ্য জানা যায় বিপ্লব ভট্টাচার্য যে নাম্বারটি ব্যবহার করছেন সেটি তার নিজের নামে নেওয়া নয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে দৈনিক স্বাধীন সময়-এর প্রতিনিধি দল রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডে অবস্থিত ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারের কার্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অফিসে তালা ঝুলছে এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি নেই। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন অফিস বন্ধ থাকায় তারা কোনো ধরনের তথ্য বা সমাধান পাচ্ছেন না।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা প্রথমে বিদেশ ভ্রমণের আশায় ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এ টাকা জমা দিয়েছিলাম। পরে নানা অজুহাতে সময় নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আর কোনো স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।” আরেকজন অভিযোগ করেন, অনেকেই নিজের সঞ্চয়, ঋণ কিংবা সম্পত্তির অংশ বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানসিকভাবেও তারা বিপর্যস্ত। অনেক পরিবার দৈনন্দিন জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা দাবি করেন, বিষয়টি নিছক ব্যবসায়িক ব্যর্থতা নয়, বরং ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর পরিকল্পিত প্রতারণার একটি ধারাবাহিক চিত্র।
আইন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারার প্রয়োগ হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং কেউ কেউ সম্মিলিতভাবে মামলা করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিপ্লব ভট্টাচার্য-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর পক্ষ থেকেও কোনো লিখিত বা মৌখিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। ভুক্তভোগীদের একটাই দাবি—সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক।

