মোঃ তৈয়ব জালাল:
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে যখন-তখন গানবাজনা ও উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর পবিত্রতা, ভারসাম্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষদের পক্ষ থেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো নিয়মনীতি বা পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছে, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পরিপন্থী। এতে নামাজ, হাফেজ খানার ছাত্রদের কুরআন পাঠের পরিবেশ, প্রার্থনা ও ধ্যানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ধর্মীয় নেতারা বলছেন, মসজিদ মাদ্রাসা, হাফেজ খানা ও কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করা ধর্মপ্রাণ মুসলমান সহ সবার ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। কোন অমুসলিম এসে এসব প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা করবে না। এসবের পবিত্রতা নষ্ট করলে একদিকে ধর্মের প্রতি অবহেলা, অপরদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অবমাননা।
এবিষয়ে দারুসসালাম দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার ও ঈদগাঁও বাসস্টেশনস্থ হাজী আনু মিয়া সিকদার জামে মসজিদের খতীব হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব জালাল জানান, গানবাজনা ইসলামে হারাম। এর ইহকালীন ও পরকালীন পরিণাম ভয়াবহ। একদিকে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, অপরদিকে পরকালীন রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
তিনি আরও জানান, নবী মুহাম্মদ (ছঃ) গানবাজনা শুনলে কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে পালিয়ে যেতেন, সেই নবীর উম্মতের আজকের দৈনন্দিন কাজ হচ্ছে গানবাজনায় মেতে উঠা। অথচ এর ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূল (ছঃ) গানবাজনাকে গজবের কারণ হিসেবে সতর্ক করেছেন।
আজকে যারা বিয়েশাদী সহ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে এসব হারাম জিনিসকে বিনোদনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাদের জেনে রাখা উচিত, বিয়েশাদী সুন্নাহ ও ইবাদত। হারামের মাধ্যমে সুন্নাহ কখনোই ইবাদাত হিসেবে কবুল হবে না। ফলে বিয়েশাদীর পারিবারিক যে বরকত থাকার কথা, তা উঠে গেছেই বললে চলে। যার বিয়েশাদীর কিছুদিন যেতে না যেতেই পারিবারিক কলহ শুরু হচ্ছে এবং সন্তান-সন্ততি অবাধ্য হচ্ছে।
এদিকে সচেতন মহল দাবি করছেন, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে এসব অনিয়ম দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা ও মর্যাদা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

