মোঃ মেহেদী জামান আনন্দ , ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা উপজেলা ফুলবাড়ী। এখানে নেই কলকারখানার ব্যস্ততা, নেই শহরের চাকচিক্য—এখানকার মানুষের বেঁচে থাকা জড়িয়ে আছে কৃষির সঙ্গে, মাটির সঙ্গে। আমন আর বোরো মৌসুমে ধান চাষেই সাধারণত কাটে তাদের দিন।
তবে ব্যতিক্রম উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষকরা। নিয়মের বাইরে গিয়ে এরা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকিকে সঙ্গী করেই জমিতে তারা ফলিয়েছেন নানা ধরনের সবজি।
বীজ বপনের মুহূর্ত থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি দিনই তাদের একেকটি লড়াই। কনকনে শীত উপেক্ষা করে চলতি মৌসুমেও তারা চাষ করেছেন মরিচ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুনসহ নানা শাকসবজি। তবে এবারে কঠিন সংগ্রামের পর স্বপ্নপূরণ হয়েছে সবজি চাষিদের।
গজেরকুটি গ্রামের কৃষক মহসিন মিয়া জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। খেতে বেগুনের ফলন ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। বাজারে বেগুনের চাহিদা ও দাম মোটামুটি ভালো থাকায় লাভ ভালোই হয়েছে। এছাড়াও তিনি এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে মরিচের দামও ভালো। বাজার দর এরকম থাকলে এবছর বেগুন ও মরিচ চাষ করে মোটামুটি লাভ হবে তার, জানান তিনি।
মরিচ চাষি জয়নাল আবেদীন জানান, এবার মরিচ চাষে মোটামুটি ধকল গেছে। জমিতে বীজ বপনের পর বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেতে নানান রোগ দেখা দেয়। ফসল বাঁচাতে মোটা অংকের টাকা খরচ হয়েছে তার। তারপরও এই কৃষক আছেন ফুরফুরে মেজাজে। কেননা বাজারে এবার কাঁচা মরিচের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো। ফলে বেশি খরচের পরেও লাভের হিসাবই কষছেন এই কৃষক।
খলিশাকোঠাল গ্রামের কৃষক দুলাল চন্দ্র রায় জানান, গত বছর ফুলকপি চাষ করে তাকে লোকসান গুনতে হয়েছে। কারণ ফুলকপির দাম পান নি। তবে এবারে খেতে ফুলকপির ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে দামও ভালো। এর ফলে গত বছরের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পেরেছেন বলে জানান এই কৃষক।
শুধু বেগুন ও মরিচ চাষিরাই নয় এই এলাকার অন্যান্য শাক সবজি চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। এবারে সবজির ভালো দাম পাওয়ায় তারা লাভের মুখ দেখতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন এবং আগামী দিনে আরো বেশি জমিতে সবজি চাষ করবেন, জানান তারা।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ শাহ্ জানান, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের মাটি সবজি চাষের উপযোগী। এখানকার অধিকাংশ কৃষক এবারে সবজি চাষ করেছেন। তিনি সবজি চাষে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। এবারের সঠিক পরিচর্যায় কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, উপজেলা এবারে ১ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বিভিন্ন শাক সবজির আবাদ করেছেন। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষকরা আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছেন।

