গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিবেদক:
মানিকগঞ্জে শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষকের মাঝে দ্বন্দ্ব হওয়ায় পাল্টা পাল্টি জিডি করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামে সাথে অনুষ্ঠান চলাকালে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ প্রেক্ষিতে উভয় এঁকে অপরের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। জিডি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দির্ঘদিন যাবত এই বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু, এ বছর তাকে না দিয়ে অন্য শিক্ষক দিয়ে পরিচালনা করছেন ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন। জাহিদুল ইসলামের নাম না দেয়াতে জিজ্ঞেস করাতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে জাহিদ মাস্টারের হাতের কব্জিতে কামড় দেন। পাশে থাকা অন্যান্য শিক্ষকরা এসে তাদের থামান এবং জাহিদ মাস্টারকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় জাহিদুল ইসলামের নাম না দেওয়ায় মোহাম্মদ তফসের উদ্দিন ও শ্যামল চন্দ্র মন্ডল এদের দু’জনের দায়িত্ব দেন। এ বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দু’জনার মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা দেখে আমরা অন্যান্য শিক্ষকরাসহ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনি। সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবত এই শিক্ষক এই বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম- দুর্নীতি করে আসছে। এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ ৪ দফায় ৫ মাসে বেতন কর্তন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হয়তো। এ কারণে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত আছেন। এ বিদ্যালয় প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে থাকি। কিন্তু এবার আমার নাম বাদ দেয়ার কারণ জানতে চাইলে, তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং আমাকে বিভিন্ন খারাপ ভাষায় গালাগালি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে আমার হাতের কব্জিতে কামড় দেন। সেই সাথে আমার প্রাণনাথের হুমকি দিয়ে থানায় জিডি করতে যান। তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন আওয়ামী লীগের মানিকগঞ্জ- ১ আসন সংসদ সদস্য এবিএম আনোয়ারুল হক (এমপি)র নিকট আত্মীয় হওয়াতে বিগত বছরগুলিতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়ম- দুর্নীতি করে আসছে। তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে বহুবার পত্র- পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সে ২৬/০৯/২০১২ সালে আওয়ামী লীগের শাসন আমলে প্রভাব খাটিয়ে বহু বিতর্কিত ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। সে আওয়ামী লীগে সক্রিয় থাকায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা হয়নি। সেই ব্যক্তি এখনো এই বিদ্যালয়ে যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই আমরা তার শত্রু। প্রশ্ন ফাঁস, ঘুষ দুর্নীতি ও নিয়ম নীতি তোয়াকা না করে নিজের গড়া অ্যাডহক কমিটি ২৬ অক্টোবর ২০২৫ বিলুপ্ত না করে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বিদ্যালয়ে নানা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, ছাত্র-ছাত্রী ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, আমি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের চিঠি-পত্র প্রস্তুতের কাজ করছি এমন সময় সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম রুমে প্রবেশ করে। প্রতি বছর তিনিই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এবার এ অনুষ্ঠানের ৩ জন শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়ার কথা শুনে জাহিদ মাস্টার উত্তেজিত হয়ে বলেন, নয়াবাড়ীর মাটিতে তাকে বাদ দিয়ে কোন অনুষ্ঠান পরিচালিত হতে দেবে না। এই বলে, আমার টেবিলের কাগজ- পত্র ছিনিয়ে নেয় এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এবিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রাণী কর্মকার জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

