রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডে অবস্থিত ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামের একটি বেসরকারি ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সার্বিয়া সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সংঘবদ্ধভাবে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সংশ্লিষ্টরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা প্রসেসিং ও কাজের সুযোগের আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে। শুরুতে নিয়মিত যোগাযোগ ও নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো ভিসা, টিকিট বা বৈধ কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি। একপর্যায়ে অফিসে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ফোন নম্বরগুলো অচল হয়ে পড়ে। অভিযোগে যেসব ব্যক্তি ও নম্বর উঠে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছেন ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর পরিচালক বিপ্লব ভট্টাচার্য (01618-842817, +880 1837-547061), প্রতারক চক্রের সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচিত রনি (01823-932792) এবং মাশুক (+880 1672-174905)। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব নম্বর ব্যবহার করেই বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়া হয়; বর্তমানে সব নম্বরই বন্ধ বা রিসিভ করা হচ্ছে না।
বিষয়টি অনুসন্ধানে দৈনিক স্বাধীন সময়–এর একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডের ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারে অবস্থিত ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর কার্যালয়ে সরেজমিন গেলে অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। আশপাশের লোকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে অফিসে কোনো কার্যক্রম নেই। মালিক বা কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধির বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা সার্বিয়া ও ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে টাকা দিয়েছি। প্রথম দিকে আশ্বাস দিলেও পরে শুধু সময় নষ্ট করেছে। এখন ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর কেউ ফোন ধরছে না, অফিসেও পাওয়া যাচ্ছে না।” আরেকজন বলেন, “বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে।” ভুক্তভোগীদের দাবি, ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস শুধু ধনী শ্রেণি নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সঞ্চিত অর্থও আত্মসাৎ করেছে। অনেকে ধার করে, কেউ জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা কোনো সেবা পাননি, বরং মানসিক চাপ ও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা হতে পারে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ সংগ্রহ, সেবা না দেওয়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে প্রতারণার একটি সুস্পষ্ট প্যাটার্ন নির্দেশ করে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং সম্মিলিতভাবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। এ বিষয়ে ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর পরিচালক বিপ্লব ভট্টাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, যারা ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা এ বিষয়ে তথ্য দিতে চান, তারা ০১৪০৭০২৮১২০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং আত্মসাত করা অর্থ ফেরতের জোর দাবি জানিয়েছেন।

