পঞ্চগড়-১ আসনে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক মাঠ। এই আসনে লড়ছেন তিনজনই নিজ নিজ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা- যাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি কারো চেয়ে কম নয়।
জাসদ প্রার্থী নাজমুল হক প্রধান
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্যতম মুখ। মাঠে দেখা যাচ্ছে – দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার কৌশল।
বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা, নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে আলাদা বৈঠকসহ সুসংগঠিত প্রচারণায় ব্যস্ত বিএনপি প্রার্থী।
এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নেতা ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারির ভূমিকার জন্য ব্যাপক পরিচিতি পান।
প্রকাশ্য প্রচারণার বাইরে নতুন সমীকরণ:-
প্রকাশ্যে তিন প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়লেও, স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের আলোচনায় উঠে আসছে এক ভিন্ন চিত্র:- চাপা ভোট’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চাপা ভোটের বড় অংশই জামায়াত-সমর্থিত ভোট, যা প্রকাশ্যে খুব একটা বোঝা যায় না। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই ভোটের উল্লেখযোগ্য অংশ এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলমের দিকে ঝুঁকছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, এই চাপা ভোটের প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তার পক্ষে যেতে পারে।
তরুণ নেতৃত্বেই আস্থা?
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে যে বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে-
সারজিস আলম তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী
জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে দৃশ্যমান
তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের মধ্যে রয়েছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা
অনেক ভোটারের বক্তব্য,
“পুরোনো ধারার রাজনীতির বাইরে গিয়ে যে নেতৃত্ব সাহস দেখিয়েছে, তার ওপরই ভরসা রাখতে চাই।”
শেষ পর্যন্ত কী হবে?
পঞ্চগড়ের এবারের নির্বাচন শুধু মিছিল-মিটিংয়ের হিসাব নয়। এখানে আছে:-
প্রকাশ্য ভোট
নীরব ভোট
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, চাপা ভোট
কে জিতবে, তা সময়ই বলবে।
তবে এটুকু নিশ্চিত:-
এই নির্বাচনে এনসিপি ও সারজিস আলম এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছেন, যাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

