নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অবাধ, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতেই এই নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকরা যা করতে পারবেন:
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ পাবেন:
অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশ: ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করে সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।
তথ্য সংগ্রহ: প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।
ভোট গণনা: ভোট গণনার সময় উপস্থিত থেকে ছবি তোলা এবং সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।
সচিত্র সংবাদ: কেন্দ্রের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ছবি বা ভিডিওসহ সংবাদ প্রচার করা যাবে। তবে সব ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের জন্য যা নিষিদ্ধ:
ভোটের পবিত্রতা ও গোপনীয়তা রক্ষায় ইসি বেশ কিছু বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে:
গোপন কক্ষ: কোনোভাবেই গোপন ভোটদান কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করা বা সেখানকার ছবি তোলা যাবে না।
সীমিত সময় ও সদস্য: একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুই জন সাংবাদিক একটি ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সেখানে অবস্থানের সময় হবে বড়জোর ১০ মিনিট।
লাইভ সম্প্রচার: সরাসরি বা ‘লাইভ’ সংবাদ সম্প্রচার কোনোভাবেই ভোটকক্ষের ভেতর থেকে করা যাবে না।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: ভোটকক্ষে কর্তব্যরত কর্মকর্তা, নির্বাচনি এজেন্ট বা ভোটারদের কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না।
নির্বাচনি সামগ্রী: ব্যালট পেপার বা অন্যান্য সামগ্রী স্পর্শ করা যাবে না এবং ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটে এমন কোনো কাজ করা চলবে না।
নিরপেক্ষতা: কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণামূলক কাজে অংশ নেওয়া যাবে না।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জারিকৃত এই নীতিমালা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুষ্ঠু গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকর্মীদের এই নীতিমালা মেনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

