• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • সৈয়দপুরে নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে সংশয় 

     swadhinshomoy 
    11th Feb 2026 11:57 am  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    জয়নাল আবেদীন হিরো,নীলফামারী,জেলা প্রতিনিধিঃ

    নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধারণ জনগনের প্রতিরোধকে মব বলে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) সৈয়দপুর প্রেসক্লাবে বেলা ১ টায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই আয়োজনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর শহর শাখার আমীর শরফুদ্দিন খান।
    শহর আমীর মাওলানা ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী উপজেলা জাপার সাবেক সভাপতি ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন, এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র নেতা আনোয়ারুল ইসলাম মানিক, পৌর আহ্বায়ক জাবেদ আত্তারী ও সাংবাদিক জাকির হোসেন প্রমুখ। এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাড. এস এম ওবায়দুল হক, সাধারন সম্পাদক শাহিন আকতার ও প্রচার সম্পাদক আবু সরকার। এছাড়া বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) রাত ১০ টায় সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া শহীদ বদিউজ্জামান সড়কে জাপা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণ করা হয়। এখবর পেয়ে এলাকার কতিপয় যুবক প্রতিবাদ জানালে সেখানে অবস্থানকৃত নিষিদ্ধ সংগঠন সৈয়দপুর পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকের ছেলেসহ পৌরসভার একজন সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা দ্রুত মোটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। পরে ভেতর থেকে অফিসের গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।
    এমতাবস্থায় লোকজন বিষয়টি প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের জানায়। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে উপস্থিত লোকজন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলাকালিন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার মেহদী ইমাম মোবাইল কোর্টের গাড়ি ও পুলিশসহ সেখানে আসেন। কিন্তু তিনি ওই অফিসের গেটে না থেমে সাইরেন বাজিয়ে চলে যেতে থাকেন। পরে লোকজন তাকে থামিয়ে টাকা বিতরণের কথা জানান এবং ভেতরে আওয়ামীলীগ নেতাসহ বিপুল পরিমাণ টাকা আছে উল্লেখ করে অফিসটি তল্লাশির দাবি জানান। কিন্তু ম্যাজিষ্ট্রেট গাড়িতেই অবস্থান করার সুযোগে গেট খুলে বাকি লোকজনও দ্রুত সটকে পড়ে। তাছাড়া পিছন দিক দিয়েও টাকা সরানোসহ লোকজন পালিয়ে যায়।
    পরে উপস্থিতদের চাপে ম্যাজিষ্ট্রেট গাড়ি থেকে নেমে অফিসের গেলে অবস্থান নেন। দীর্ঘ প্রায় ২ ঘন্টায়ও তিনি সেই গেট খোলার কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় লোকজন ভুয়া ভূয়া শ্লোগান শুরু করলে সংবাদকর্মীরা তা লাইভ করেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হয়। কিন্তু তারপরও গেট খোলা হয়নি এবং প্রশাসনও জোড়ালো কোন উদ্যোগ নেয়নি। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার বিষয়ে কোন কিছু না জেনেই এলোপাথারী লাঠিচার্জ করে। এতে ২০-২৫ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়। পরে ম্যাজিষ্ট্রেট ফাঁকা অফিসে লোক দেখানো তল্লাশী চালায়।
    এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মেহদী ইমাম সাংবাদিকদের জানান, লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাপা প্রার্থীর অফিসে তল্লাশী চালানো হয়েছে। এখানে কোন ব্যক্তি বা টাকা পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু তিনি অভিযান চালানোয় বিলম্ব করার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি। তাছাড়া ঘটনার সময় কিশোরগঞ্জ সদর  ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সোহওয়ার্দী গ্রেনেড বাবু আসলে ৩৫ হাজার টাকাসহ পুলিশের হাতে তুলে দিলেও তাকে পড়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে এই প্রার্থীর প্রতি সহানুভুতি প্রদর্শণ করছে।
    এর আগেও তিনি একাধিকবার আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও তার বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এমনকি এক সপ্তাহ আগে কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি ইউনিয়নের বাফলার বিল মাস্টারপাড়া এলাকায় স্থানীয় জনগণ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমকে গাড়িতে টাকা বহনকালে আটক করে। কিন্তু কৌশলে টাকাসহ গাড়িতে থাকা ২ জন দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন সিদ্দিকুল আলম।
    এরপরও প্রশাসন নির্বিকার থাকায় এখনও ব্যাপকভাবে টাকা বিতরণ অব্যাহত রেখেছে জাপা প্রার্থী। এমনকি আওয়ামীলীগ নেতাদেরসহ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের টাকা দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে তাদের মাধ্যমে ভোট কেনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরফলে নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে পড়েছে। তাই সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় এই পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সেজন্য সৈয়দপুর থানার ওসি ও এসিল্যান্ডকে দ্রুত অপসারনের দাবি জানানো হয়। নয়তো নির্বাচন বর্জনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বলে জানান বক্তারা। একইসাথে কালো টাকার প্রভাব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতক কর্তৃপক্ষসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    February 2026
    S M T W T F S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728