জয়নাল আবেদীন হিরো,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলহাজ্ব সিদ্দিকুর আলম সিদ্দিকের নির্বাচনী কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫ টায় সৈয়দপুর ইকু হেরিটেজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুর আলম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি মো. সিদ্দিকুল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী। পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিপক্ষ একটি সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল রাতে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে টাকা বিতরণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত উগ্র কর্মীরা,
জামায়াত প্রার্থী মুনতাকিমের ছোট ভাই দুলাল, এনসিপির জাবেদ আততারী এবং আল-ফারুকের প্রিন্সিপাল শফিকুলের নেতৃত্বে তিন শতাধিক সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় প্রায় দুই ঘণ্টা তার কর্মীরা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় অফিসের দেয়াল, গেট, জানালা এবং দুটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা তার অন্তত ১০ জন কর্মীকে মারধর করে, তিনজনের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং দুজনকে গুরুতর আহত করে।
আহতদের মধ্যে কালাশাহ নামের এক কর্মীকে মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও তারা বিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে হামলাকারীদের দাবির মুখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে কোনো অবৈধ
কিছু না পেয়ে ক্লিয়ারেন্স প্রদান করেন। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর সেনাবাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে শান্তিপ্রিয় সৈয়দপুরের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে পরাজয়ে ভীত হয়ে প্রতিপক্ষরা মব জাস্টিসের রাজনীতি শুরু করেছে। আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি নির্বাচন কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জের জনগণকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে মাত্র ছয় মাসে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা শুরু করেছিলেন। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনের ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় পার্টির মনোনয়নে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বললেও শুরু থেকেই তাকে চারটি গায়েবি মামলায় জড়িয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কমিশনে রিট করে এবং বিভিন্নভাবে তাকে আইনি ও প্রশাসনিক হয়রানি করা হয়েছে।
প্রচারণায় নামার পর থেকে তাকে ও তার কর্মীদের হুমকি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ভয় দেখানো, প্রকাশ্য সমাবেশে অশালীন ভাষায় গালাগালি এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থকদের এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জের রণচণ্ডিতে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও ঘটে, যার বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

