উজ্জ্বল চন্দ্র মন্ডল, মাদারীপুর
মাদারীপুর সদরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। সংঘর্ষে কমপক্ষে শতাধিক হাত বোমার বিস্ফোরন ঘটানো হয়। উক্ত সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ৪ জন।
শুক্রবার(১৩/০২/২৬ ইং) সন্ধ্যা ৭.৩০ টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে হামবোমা বিস্ফোরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে মুহুর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও জব্দ করা হয় ৪ টি মোটরবাইক।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন, সজিব হাওলাদার পিতা- চুন্নু হাওলাদার, রনি মুন্সি পিতা- চান মিয়া মুন্সি, রানা বেপারী পিতা- খালেক বেপারী ও ওই এলাকার মোঃ রাশেদ।
উক্ত সংঘর্ষের ব্যাপারে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরদের থেকে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকার “আক্তার হাওলাদার” ও “হাসান মুন্সির” মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরেই শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬.৪০ মিনিটে মাদারীপুর জজ কোর্ট এর পার্শ্ববর্তী চর কুকরাইল এলাকায় আক্তার হাওলাদারের সমর্থক রানা বেপারী পিতা- খালেক বেপারীর ওপর হামলা চালায় নতুন মাদারীপুর এলাকার হাসান মুন্সি পক্ষের ১০/১৫ জন। উক্ত হামলায় “রানা বেপারীর” ডান হাত ভেঙ্গে যায়। রানা বেপারীর উপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন। বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সংঘর্ষের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন কৌশলে অভিযান পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা।
সংঘর্ষের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে যৌথবাহিনীর পরিচালিত অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সন্দেহজনক ৪ টি মোটরবাইক জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এলাকার পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত ও শৃঙ্খল রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

