রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-৩—রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা নিয়ে গঠিত এ জনপদ দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। পাশাপাশি শিল্পায়নের সম্ভাবনাও রয়েছে এখানে। চলনবিল ঘিরে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়নের গতি আরও বৃদ্ধি করা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ভিপি আইনুল হক। তার এ বিজয়ে স্থানীয় পর্যায়ের জনসাধারণ তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের মতে, কৃষিনির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি এ এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার অবাধ সুযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো ও বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে এ সম্ভাবনাগুলো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তারা মনে করেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অতি সহজ হতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আশির দশক থেকেই ভিপি আইনুল হক সক্রিয়। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। তিনি ছাত্রাবস্থায় পর পর তিন বার ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন, পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আওয়ামী দুঃশাসনের সময় বিপুল ভোটে উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবধানে জয়ী হন। তারা মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও সংগঠনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত থেকেছেন ভিপি আইনুল হক—এমন মন্তব্য স্থানীয়দের। তাদের দাবি, তার এ অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগানো হলে উত্তরবঙ্গে উপকৃত হতে পারে।
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের বাসিন্দাদের আশা, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য ও শিল্প খাতে সমন্বিত উন্নয়ন সম্ভব হবে। তবে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি সময়ই বলে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

