রাজনীতিবিদ মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী নির্বাচনে পরাজিত হলেও জনসমর্থন ও ভালোবাসার দিক থেকে তিনি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর অনেকেই মনে করেছিলেন তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে পারে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—ভোটের ময়দানে হারলেও তিনি লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁর প্রতি মানুষের আবেগ ও আস্থা আগের মতোই দৃঢ়। স্থানীয় তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও বলছেন, তিনি কেবল একজন প্রার্থী নন—একজন দাওয়াতি বক্তা, সমাজ সচেতন মানুষ এবং নৈতিকতার আহ্বানকারী হিসেবে নিজেদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সময় নির্বাচনী ফলাফল জনপ্রিয়তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটায় না। মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ, ধর্মীয় মাহফিল ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যে সম্পর্ক তিনি গড়ে তুলেছেন, তা ভোটের হিসাব-নিকাশের বাইরে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর বক্তব্য, আবেগময় ভাষণ ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করার প্রচেষ্টা তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
নির্বাচনের সময় তাঁর পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভোটের ফলাফল অনুকূলে না এলেও তাঁর অনুসারীরা এটিকে সাময়িক পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তাদের বক্তব্য—“জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। কিন্তু মানুষের অন্তরে যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, তা কোনো ফলাফল দিয়ে মাপা যায় না।”
স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে তিনি একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা হিসেবে যে অবস্থান তৈরি করেছেন, তা ভবিষ্যতেও প্রভাব ফেলবে। সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক কাজই তাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নির্বাচনে হেরে গেলেও মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী জনমনে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। মাধবপুর ও চুনারুঘাটের মানুষের হৃদয়ে তিনি এখনো এক আবেগের নাম—যেখানে রাজনীতির হিসাব নয়, বরং ভালোবাসা ও বিশ্বাসই বড় হয়ে ওঠেছে।

