আন্তর্জাতিক:
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ মের্ৎস ১৪ ফেব্রুয়ারি মিউনিখে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতের শুরুতে ওয়াং ই চীনা নেতার শুভেচ্ছা মের্ৎসের কাছে পৌঁছে দেন। ওয়াং ই বলেন, গতকাল মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলরের দেওয়া ভাষণ জার্মানি ও ইউরোপের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রত্যাশাকেই প্রতিফলিত করে। এ বিষয়ে জার্মানি আরও বড় ভূমিকা পালন করবে বলে চীন সমর্থন জানায়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে চীন যেসব উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা মূলত জাতিসংঘ-কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। যদিও জাতিসংঘের মর্যাদা ও কর্তৃত্ব কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও এর গুরুত্ব ও অবস্থান অপরিবর্তনীয়। জাতিসংঘকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, চীন ও জার্মানির উচিত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা এবং বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নে নতুন অবদান রাখা। পাশাপাশি চীন আশা করে যে, জার্মানি চীন-ইইউ বাস্তবসম্মত সহযোগিতার চালিকাশক্তি এবং চীন-ইইউ কৌশলগত সম্পর্কের স্থিতিশীল ভিত হিসেবে কাজ করবে।
ওয়াং ই আরও বলেন, চীন ও জার্মানির মধ্যে অভিন্ন স্বার্থ ও পরস্পর পরিপূরক অনেক বিষয় রয়েছে। সহযোগিতা জোরদার করা দুই দেশের বাস্তব চাহিদাভিত্তিক একটি কৌশলগত পছন্দ। চীন উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে, যা জার্মান কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জার্মানিও চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ন্যায়সঙ্গত ও সুবিচারপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করবে। চীন জার্মানির সঙ্গে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের প্রস্তুতি নিতে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা বাড়াতে এবং ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ‘চীন-জার্মানি সর্বমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্ব’কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
জবাবে চ্যান্সেলর মের্ৎস ওয়াং ই-কে অনুরোধ করেন চীনা নেতার কাছে তাঁর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে। মের্ৎস বলেন, চীন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণকারী গৌরবময় উন্নয়ন অর্জন করেছে এবং একটি বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জার্মানি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মর্যাদা ও ভূমিকা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা চীনের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত ধারণার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জার্মানি ও চীন যদি এসব ধারণা একসঙ্গে লালন ও বাস্তবায়ন করে, তবে তা দুই দেশের জন্যই কল্যাণকর হবে এবং বিশ্বের জন্যও মঙ্গল বয়ে আনবে। জার্মানি ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের সুফলভোগী ও সমর্থক। আমাদের উচিত সুযোগ কাজে লাগানো, সম্ভাবনা অন্বেষণ করা এবং সহযোগিতা আরও গভীর করা। জার্মানি সবসময়ই সংরক্ষণবাদের বিরোধিতা করে এবং মুক্ত বাণিজ্যের পক্ষে অবস্থান নেয়। তাঁর দেশ জার্মান কোম্পানিগুলোকে চীনে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে উৎসাহিত করে। জার্মানি একচীন নীতি মেনে চলে এবং চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ জোরদার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটাতে চায়।
সূত্র:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

