নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ
প্রকৃতি যেন তার রূপের ডালি সাজিয়ে বসেছে নওগাঁর পত্নীতলায়। চারদিকে সবুজ মাঠের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে হাজারো সূর্যমুখী। বাতাসের দোলায় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকা এই ফুলের সৌন্দর্য এখন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে। বিশেষ করে উপজেলার মোবারকপুর বাজার সংলগ্ন আলোহা স্কুলের সামনের বাগানটি এখন বিনোদন পিপাসুদের অন্যতম গন্তব্য।
সৌন্দর্যের মোহনায় মোবারকপুর
হলুদ রঙের এই বিশাল গালিচা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকছে এলাকাটি। শুধু স্থানীয়রাই নন, দূর-দূরান্ত থেকেও ফুল-প্রেমীরা আসছেন এই দৃশ্য উপভোগ করতে।
স্মৃতি যখন ফ্রেমে বন্দি: তরুণ-তরুণীদের মাঝে সূর্যমুখী ফুলের সাথে ছবি ও সেলফি তোলার হিড়িক পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এখন পত্নীতলার এই সূর্যমুখী বাগানের জয়জয়কার।
পরিবেশ ও আমেজ: বিকেলের নরম আলোয় যখন ফুলের বাগানটি সোনালী রূপ ধারণ করে, তখন সেখানে এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই পরিবার নিয়ে আসছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে।
পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা
আঞ্চলিক এই ছোট এলাকাটি এখন যেন একটি উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই বাগানের কারণে মোবারকপুর বাজার এলাকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত।
“সূর্যমুখী মানেই যেন একরাশ আনন্দ। আলোহা স্কুলের সামনে এই হলুদের সমারোহ দেখে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। এমন দৃষ্টিনন্দন বাগান আমাদের এলাকায় আরও হওয়া উচিত।”
— একজন নিয়মিত দর্শনার্থী
কৃষিতে নতুন মাত্রা
সৌন্দর্য ছড়ানোর পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরাও। কম খরচে লাভজনক এই ফসল যেমন তেলের চাহিদা মেটাচ্ছে, তেমনি এলাকার নান্দনিকতাও বৃদ্ধি করছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, পত্নীতলার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

