নিজস্ব প্রতিবেদক, এম আব্দুল আউয়াল পঞ্চগড়:
নদী আমাদের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এই সম্পদ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ আমাদের সবার দায়িত্ব হলেও পঞ্চগড় জেলায় চলছে তার উল্টো চিত্র। জেলার বিভিন্ন নদী, বিশেষ করে করতোয়া নদীর বুকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথর ও বালু উত্তোলনের সময় নদীর তীর কেটে সমতল ভূমিকে নদীগর্ভে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে নদীর প্রস্থ ও গভীরতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একসময় করতোয়া নদীতে বড় বড় লঞ্চ ও স্টিমার চলাচল করলেও বর্তমানে সেখানে ছোট নৌকাও চলতে হিমশিম খাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নদীর তীরবর্তী সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের কয়েক একর জমি কেটে নদীর সঙ্গে বিলীন করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার সিএনবি অঞ্চলে গড়ের ডাঙ্গা নামক ব্রিজ সংলগ্ন ক্যানেলের পাড় খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। ওই ক্যানেলের মোহনা করতোয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। সেখানে সরকারি খতিয়ানভুক্ত জমি খনন করে পাথর ও বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নদীগর্ভে বিলীন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি জমি সংরক্ষণের জন্য পূর্বে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত বাঁধ উপেক্ষা করে অবাধে পাথর-বালু উত্তোলন চলছে। সিএনবি এলাকা থেকে মালিপাড়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি কেটে নদীর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ট্রাক্টরের রাস্তা নির্মাণ করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে নির্বিচারে পাথর-বালু উত্তোলনের ফলে শুধু নদীর পরিবেশই নয়, আশপাশের কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙন ও ভূমি ক্ষয়ের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে।
এদিকে পাথর-বালু উত্তোলনের কারণে পঞ্চগড় শহরের একমাত্র সেতুর স্প্যানের গোড়া থেকে বালু সরে গিয়ে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সেতুর মেরামত কাজ চলমান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না। পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ পাথর-বালু উত্তোলন বন্ধ, সরকারি জমি রক্ষা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নদী রক্ষা মানেই পরিবেশ রক্ষা-এই উপলব্ধি থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে পঞ্চগড়ের নদীগুলো মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

