শফিকুল ইসলাম সোহেল
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।
ডামুড্যায় মাছ ধরার অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক নামের এক যুবককে গাছের ডাল দিয়ে ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মাছের ঘেরর এক মালিক ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। এমন দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) রাত থেকে ফেসবুকে দেখা যায় ভিডিওটি।
সেলিম পাইক উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকরী এলাকার মৃত মতলব আলী পাইক এর পুত্র।
আর যিনি পিটিয়েছেন তাঁর নাম শাহিন মাদবর (৩৮)। তাঁর বাড়ি শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নাম্বার ওয়ার্ডের পালং এলাকায়। তিনি মাছের ঘের ব্যবসায়ী এবং শরীয়তপুর জেলা আন্ত: পরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক।
৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিম পাইককে দুই হাত ধরে মাছের ঘেরের মাঝখান থেকে পারে নিয়ে আশে। পরে একব্যক্তি হাত ধরে রাখেন এবং দুইব্যক্তি মিলে গাছের ডাল দিয়ে তাকে পিটাচ্ছেন। এসময় সেলিম জোরে জোরে ‘বাবারে, বাবারে’ বলে চিৎকার করছেন।
এদিকে, আরেকটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর হাত রশি দিয়ে বাধা, মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর মোটা একটি শুকনা ডাল দিয়ে সেলিমকে দুই পায়ে সজোড়ে পিটাচ্ছেন। আর তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার ভোরে সেলিম পাইককে পিটিয়ে পা ভেঙে ডামুড্যার ইকরি এলাকায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়। তাঁর অবস্থা খারাপ দেখে সেলিমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে অভিযুক্ত শাহিন ও তাঁর লোকজন।
সোহরাব মোল্লা নামের ইকরি এলাকার বাসিন্দা বলেন, আমি ফজরের নামাজ পরে বাড়িতে যাচ্ছিলাম তখন দেখতে পাই এক ব্যক্তিকে পুকুর থেকে ধরে এনে কয়েকজন লোক পিটাচ্ছেন। পরে বাড়িতে চলে যাই। বাড়ি থেকে ফিরে এসে দেখি ওই একই ব্যক্তিকে পিটাচ্ছেন। যা অমানবিক ঘটনা।
এবিষয়ে, শরীয়তপুর জেলা আন্ত: পরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর বলেন, চার মাস আগে আমার ঘেরের মাছ চুরি করছে সেলিম। তখন আমি তাকেসহ সাতজনকে আসামী করে থানায় মামলা করি। আমার ৭০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে গেছে তারা। আবার ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) ভোরে ছয়জন লোকসহ আমার পুকুরে জাল ফেলতে এসে আমার লোকজনকে সেনদা দিয়ে ধাওয়া দিছে সেলিম ও তাঁর লোকজন এবং আমার এক পাহাড়াদারকে মেরে আহত করেছে। পরে আমার লোকজন ওদেরকে ধাওয়া দিলে ৬জন পালিয়ে যায়। আর আমার লোকজন সেলিমকে ধরে ফেলে।
পিটানোর সত্যতা স্বীকার করে শাহিন মাদবর বলেন, ঘের আমার আমি পিটাবো না, পিটাবে কে!
আহত সেলিম পাইক বলেন, আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে মাছ চোরের অপবাদ দিয়ে পিটিয়েছে। আমার পা ভেঙে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। মাছ চোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

