বগুড়া শাহজাহানপুর উপজেলায় মাদলা ইউনিয়নে বেজোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে জানা যায়
ভুক্তভোগী আসামির বাবা মানিক মিয়া(৪৬), গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল রাত ১০ টায় নিজ বাড়িতে গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য শজিমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে ।নিহত মানিক মিয়া শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া দক্ষিণ পাড়ার মৃত আব্দুস সামাদের পুত্র বলে জানা গেছে। তিনি পেশায় একজন রিক্সাচালক।উল্লেখ্যযে গত ০৭/০১/২৬ ইং গভীর রাতে শাজাহানপুর থানা পুলিশ, বাসা থেকে তুলে নিয়ে বিপুল (২৩) ও নাহিদ(২৪) কে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে। বিপুল নিহত মানিক মিয়ার বড় পুত্র এবং একটি বেসরকারি ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতো। বিপুল জেলহাজতে যাওয়ার পর স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ পরে যায় মানিক মিয়ার উপর। জানা গেছে, কিছুদিন আগে বাড়ি নির্মাণের জন্য স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ায় কিস্তির চাপও বাড়ছিল। আগে বাবা-ছেলে দুজনের আয়ে সংসার চললেও ছেলে কারাগারে যাওয়ার পর একমাত্র আয়ে বড় পরিবার চালাতে গিয়ে তিনি চরম সংকটে পড়েন। একই সঙ্গে ছেলের জামিনের খরচ জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছিল বলে জানিয়েছে স্বজনরা।ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে মানববন্ধনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি চেয়েও কোন ফলপ্রসূ উপকার পাননি নিহত রিক্সাচালক মানিক মিয়া। মানিকের একজনের ইনকাম দিয়ে এতবড় সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে, সাথে ছেলে কারাগারে থাকায়, জামিনের টাকা জোগাড় করতে না পারার ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়সুত্রে জানা গেছে। এর আগে গত ৮/২/২৬ ইং তারিখে ছেলেকে থানা হতে ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা বলে স্থানীয় কিছু পুলিশের সোর্স, শাহীন,আরাফাত, হারুন নিহত মানিকের নিকট হতে ৭ হাজার নেয়।পরে পুলিশ হতে ছাড়াতে ব্যার্থ হলে মানিক টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করে।পরবর্তীতে আবারও টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে পূর্বে কয়েকটি গণমাধ্যমে জানিয়েছিল নিহত মানিক। এদিকে মানিকের
মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার ও স্বজনদের মাঝে চলছে আহাজারি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ।

