এইচ এম সাগর (হিরামন) খুলনা:
খুলনার উপকূলীয় জনপদ বটিয়াঘাটায় আবারও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সম্প্রতি উপজেলার বারোআড়িয়া কলেজ সংলগ্ন চৌমুহনা এলাকায় চলমান জিও ব্যাগ প্রকল্পের একটি জেনারেটর রহস্যজনক ভাবে চুরি হয়েছে। আর এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীভাঙন প্রতিরোধে চলমান জিও ব্যাগ ফেলার কাজে ব্যবহৃত জেনারেটরটি রাতের কোনো এক সময় হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়। সকালে কর্মীরা কাজে এসে জেনারেটর না পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটলো,তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে অন্য একটি কারণে। ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। এ নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানান জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই বলছেন, চোরের ঘরে চুরি-নাকি ভেতরের কোনো রহস্য লুকাতে চুপ থাকা?
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের চিহ্নিত করা হোক। অন্যথায় সরকারি প্রকল্পে নিরাপত্তাহীনতা ও অনিয়ম নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন উঠতে পারে। এ বিষয়ে জিও ব্যাগ প্রকল্পের ঠিকাদার রবিন কুমার বলেন, এলাকায় উত্তম শীল নামে একজন ব্যক্তি আমার কাজটি দেখাশোনা করেন। চুরি হওয়া ঘটনাটি তাকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। কিন্তু কেন সে অভিযোগ দেয়নি, সেটা বলতে পারছি না।
জেনারেটরের মূল্য ৫০ হাজার টাকা। কাজের সাইডে বিভিন্ন মালামাল রাখা এখন নিরাপদ বোধ করছি না। আবার কখন না কী ঘটে। ঠিকাদারের এমন বক্তব্য নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চুরি হলে অভিযোগ করতে দেরি কেন? দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি অভিযোগ না দিলে তার জবাবদিহিতা কোথায়? এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের চিহ্নিত করা হোক। অন্যথায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে আস্থাহীনতা আরও বাড়তে পারে। বারোআড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এস আই) আব্দুর রহিম বলেন, চুরির খবরটি শুনেছি। কিন্তু থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। যার কারণে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

