পত্নীতলা (নওগাঁ): বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে সজনার ব্যাপক ফলনের
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ
সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর চারদিকে সজনা গাছের থোকায় থোকায় সাদা মুকুল দেখে কৃষকদের চোখেমুখে এখন সোনালী স্বপ্নের ঝিলিক। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ভালো থাকলে এবার সজনার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
মুকুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত
পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে রাস্তার ধার এবং ফসলি জমির আইলে লাগানো সজনা গাছগুলো এখন মুকুলে ভরপুর। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত চারপাশ। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি সজনা চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় এবার অন্য সব ফসলের তুলনায় সজনার ফলন সবচেয়ে ভালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষকের প্রত্যাশা ও বাজার দর
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান ও আমের জন্য নওগাঁ বিখ্যাত হলেও ইদানীং সজনা চাষে আগ্রহ বাড়ছে সবার। কারণ এতে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। কৃষকদের ভাষ্যমতে:
অনুকূল আবহাওয়া: এখন পর্যন্ত প্রকৃতি সজনা চাষের অনুকূলে রয়েছে।
বাম্পার ফলন: যে পরিমাণ মুকুল এসেছে, তাতে গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ন্যায্য দামের আশা: ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি যদি বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়, তবে কৃষকের মুখে হাসি স্থায়ী হবে।
“এবার সজনা গাছে যেমন মুকুল এসেছে, তেমনটা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে এবার সজনাই হবে আমাদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক ফসল।” — স্থানীয় একজন কৃষক।
কেন বাড়ছে সজনা চাষ?
পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনার চাহিদা বাজারে সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। বরেন্দ্র অঞ্চলের আম ও ধানের পাশাপাশি সজনা এখন এই এলাকার অর্থনীতির নতুন শক্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অল্প সময়ে এবং কোনো রকম বাড়তি সার-কীটনাশক ছাড়াই সজনার ভালো ফলন পাওয়া যায় বলে এটি কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
উপজেলা কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজার ব্যবস্থাপনা সঠিক থাকলে এবার পত্নীতলার সজনা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও বড় পরিসরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

