শফিকুল ইসলাম সোহেল
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।
ডামুড্যা মাছ ধরার অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩২) নামের এক যুবককে গাছের ডাল ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভুক্তভোগীর বোন মাকসুদা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রবিউল হক জানান, সেলিমের ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলায় দুইজনকে আসামি এবং আরও ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
মাকসুদা বলেন, আমার ভাইকে যারা পিটিয়ে বিনা চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় ফেলে রেখেছে কোন চিকিৎসা করতে দেয়নি। আমরা এর বিচার চাই। দ্রুত যেন আসামিদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আমার ভাই সহজ-সরল মানুষ অনেকেই অনেক কিছু বলছে। আমরা পুলিশের কাছে আসছি আইনের কাছে আসছি আইন যেন আমাদেরকে সঠিক বিচারের ব্যবস্থা করে দেয়।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ভোরে ডামুড্যার ইকরি এলাকায় সেলিম পাইককে পিটিয়ে পা ভেঙে মাটিতে ফেলে রাখা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিমকে মাছের ঘেরের মাঝখান থেকে টেনে পারে নিয়ে আসছেন। এরপর একজন তাঁর হাত ধরে রাখেন এবং দু’জন মিলে গাছের ডাল দিয়ে পিটাচ্ছেন। এ সময় সেলিম ‘বাবারে, বাবারে’ বলে চিৎকার করছিলেন।
আরেকটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর হাত রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর মোটা শুকনা ডাল দিয়ে সেলিমের দুই পায়ে সজোরে আঘাত করছেন। এ সময় আরও তিনজন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

