এম আব্দুল আউয়াল
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালা বদলের পর দেশে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দীর্ঘ সময় বিরোধী আসনে থাকার পর হঠাৎ করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় দলটির তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের তৎপরতা ও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা অনেকের মধ্যে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন আচরণের জন্ম দিয়েছে-এমন অভিযোগ বিভিন্ন এলাকা থেকে শোনা যাচ্ছে। কোথাও জমি দখল, কোথাও চাঁদাবাজি, কোথাও টেন্ডারকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তার-এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যদি নৈতিক মানদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে সেটি কেবল একটি দলের নয়, সামগ্রিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্যও অশনিসংকেত।
উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় শহরের দর্জিপাড়া এলাকায় একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাও জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, বহু বছর আগে বিক্রয়কৃত একটি সম্পত্তি পুনরায় বেদখলের চেষ্টা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়াই প্রত্যাশিত; রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এদিকে দেশের অন্যান্য জেলাতেও সহিংসতা, হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের বিচ্ছিন্ন ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের বগুড়া কিংবা শিল্পাঞ্চল গাজীপুর-বিভিন্ন স্থানে অপরাধের খবর জনমনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি জাগাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়লে তার সুযোগ নেয় অসাধু চক্র-এ বাস্তবতা নতুন নয়।
একটি নবগঠিত সরকার বা ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক শক্তির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ন্যায়-অন্যায়ের সীমারেখা স্পষ্ট করা। দলীয় পরিচয় যেন আইনের ঊর্ধ্বে না ওঠ-এই বার্তাই হতে হবে সর্বজনীন। অন্যথায় জনসমর্থন দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে এবং নবগঠিত প্রশাসনের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হতে সময় লাগবে না।
রাজনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা। আর সুশাসনের ভিত্তি দাঁড়ায় জবাবদিহি, নৈতিকতা ও আইনের শাসনের ওপর। বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো-দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া। তাহলেই রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্যিকার অর্থে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

