অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৩৬ নম্বর উত্তর আব্দুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে এক চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে শিক্ষার্থী শান্তনা আক্তার (৪র্থ শ্রেণি), পিতা—আসাদুল্লাহ মিয়া, নিচতলায় একজন ফেরিওয়ালার কাছ থেকে খাবার কিনে উপরে যাওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ের নিচতলার নির্জন স্থানে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং অসদাচরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে সেখান থেকে বের হয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানায়।
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি চাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং স্থানীয় জনগণ বিচার দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল করেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে অন্যত্র বদলি করানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল আহমেদ তাকে বদলি হলে অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল আহমেদ এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান, প্রধান শিক্ষক তার আত্মীয় এবং তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; তাই ষড়যন্ত্রের প্রশ্নই ওঠে না।
অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

