শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মোঃ দিলুয়ার হোসেন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জলমহাল শুকিয়ে মাছ আহরণের হিড়িক পড়েছে। নীতিমালার কোন তোয়াক্কা না করে ইজারাকৃত জলমহাল শুকানোর এ যেন বিশাল প্রতিযোগিতা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিন দুপুরে একশ্রেণির প্রভাশালী মৎসরাক্ষস চক্র এসব কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার আটগাও ইউনিয়ন এর শশার কান্দা গ্রামের পাতার কান্দি হাওরে কাইবলার বিল শুকিয়ে নির্বিচারে মাছ আহরণের অভিযোগ উঠেছে খোদ ইজারাদারের বিরুদ্ধে৷
বাহাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট থেকে সাবলিজ নিয়ে ভুয়া কাজকারবার করছে জালাল মিয়া নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।
এই জলমহালটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ বছরের জন্য সরকার থেকে
ইজারা নেয় বাহাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি,
নীতিমালা অনুযায়ী তারা নিজেরা জলমহালে মাছ ধরার কথা, অথচ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রভাবশালীর সাব লীজ দিয়ে নগদে হাতিয়ে নেয় বিশাল অংকের টাকা ঐ সমিতির সুব্রত গংরা।
কিন্তু সাবলীজ নেয়া ব্যাক্তিগণ ও নীতিমলা না মেনে জলমহাল শুকিয়ে অবাধে মাছ আহরণ করায় দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ঝুঁকিতে রয়েছে হাওর অঞ্চল।
অথচ নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে সাবলীজ নামে কেউ জলমাহল আহরণ করতে পারবে না। তবে এসব নীতিমালা মানছে না সমিতির লোকেরা। নিয়ম অনুযায়ী ৩ বছরে একবার জলমহালে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি রেখে জাল দিয়ে মাছ আহরণের কথা থাকলেও প্রভাব শালী জালাল গং রা নীতিমালা ও মৎস্য সংরক্ষণ আইন অমান্য করে সেলুমেশিন দিয়ে নির্বিচারে মৎস্য নিধন করছে ইজারাদার সমিতির সংশ্লিষ্টরা।
এতে দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি হাওরের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গোলাম কিবরিয়া নামে এক ব্যক্তি শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ এর কাছে ১৪ ফেব্রুয়ারী২০২৬ এ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তিনি বর্তমানে ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। জলমহাল সেচের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইউপি সদস্যকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরদিকে সেচের কারণে হাওরে পানির সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জমিতে পানি সেচ সঙ্কটের কারণে চলতি বোরো মৌসুসে আবাদকৃত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাতারকান্দা হাওরের কান্দার পাশে কাইবলার বিলও জলমহালে ডিজেল চালতি মেসিন দিয়ে জলমহাল দিন দুপুরে শুকানো হচ্ছে। ফলে জলমহালটি শুকিয়ে মাছ ধরেছে আটগাও ইউনিয়নের উজান গাও গ্রামের বাসিন্দা প্রভাব শালী জালাল গং।
জানা যায়, এই জলমহালটি ৬ বছরের জন্য লিজ নেয় বাহাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সুব্রত দাসের নামে।
ফরিদপুর গ্রামের কৃষক মোঃ সুহেল মিয়া বলেন, জলমহালের ইজারাদারের কারনে এলাকায় কৃষক ও জেলে সম্প্রদায় বিপাকে আছেন।
তারা আইন ভঙ্গ করে বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে। আমরা জমিতে পানি পাচ্ছি না। তাছাড়া এলাকায় জেলে সম্প্রদায় মৎস্য আহরণ করতে পারছে না। সমিতির লোকেরা গোটা হাওর শাসন শোষন করছে।
অন্য দিকে শশার কান্দা গ্রামের প্রবীন মুরুব্বি সুনাহর মিয়া জানান বিল শুকিয়ে মাছ আহরণ করায় আমার জমিতে পানি দিতে পারিনি কি আর করব এরা প্রভাব শালী লোক এদের ব্যাপারে কথা বলিলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেয়।
এদিকে উপজেলার পাতারকান্দি কান্দার পাশে কাইবলার বিল জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। বিল শুকিয়ে মাছ আহরণ করায় ও হাওরে পানি সংকেটর ব্যাপারে শাল্লা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ১ নং আটগাও ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া। মাছের প্রজনন রক্ষায় অবৈধ পাম্প জব্দের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সাবলীজ নেয়া জালাল মিয়ার মটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিল ত শুকাইয়্যা ফেলেছি কিবরীয়া মেম্বারে আমার বিরুদ্ধে কত অভিযোগ ই করে।
বাহাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সেক্রেটারি সুব্রত দাস বলেন ৫ আগষ্টের পর আমি কাইবলার বিল উজান গাও গ্রামের জালাল মিয়া কে কাগজ করে দিয়েছি।
অনুসন্ধানে জানা যায় এর পূর্বে ও সুব্রত দাস গং জলমহালটি শশার কান্দা গ্রামের রনি গং দের নিকট সাবলীজ দেয়।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিয়াস চন্দ্র দাস কে ফোন দিলে তিনি বলেন, যাচাই বাছাই করে এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে ।

