মোঃ নাজিম উদ্দিন
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
পবিত্র রমজানের প্রথম দিন থেকেই গাজীপুরের শ্রীপুরে কাঁচামালসহ নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবু ও শসার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি হালি লেবু ১২০ টাকা এবং প্রতি কেজি শসা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা ও জৈনা বাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দামের তীব্রতায় ক্রেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাজারে আসা সাধারন আয়ের ক্রেতাদের চোখেমুখে বিস্ময় আর কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট।
মাওনা চৌরাস্তা বাজারে আসা ক্রেতা জাহিদ মিয়া বলেন, “লেবুর দাম শুনে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। এক হালি লেবুর দাম ১২০ টাকা! সবজি কিনলেও আজ আর লেবু কেনা সম্ভব হয়নি।” ডেকো গার্মেন্টসের কর্মী আকলিমা আক্তার আধা কেজি শসা ৫০ টাকায় কিনে আক্ষেপ করে বলেন, “রমজানে শরীর ঠান্ডা রাখতে শসা কিনি, কিন্তু বাজারে এসে দেখি শসার বাজারই গরম। এভাবে চললে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে শসা খাওয়া আর সম্ভব হবে না।”বেগুনের দামে আগুন। কিনতে গেলে ১২০ টাকা তা আমাদের সাধ্যের বাহিরে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা নিরুপায়। মাওনা চৌরাস্তার খুচরা ব্যবসায়ী আলামিন জানান, পাইকারি বাজারে প্রকারভেদে লেবু প্রতি হালি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। জৈনা বাজারের বিক্রেতা জামাল জানান, দেশি সিলেটি লেবুর হালি ১২০ টাকা এবং এলাচ লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, এই সময়টায় উৎপাদন কম থাকায় প্রতি বছরই লেবুর দাম কিছুটা বাড়তি থাকে।
মাওনা চৌরাস্তা কাঁচামাল আড়ৎদার মহসিন বলেন, “দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় লেবুর উৎপাদন কম হয়েছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহ কম। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় দাম একটু চড়া। আগামী কয়েক দিন এই অবস্থা চলতে পারে।”
এদিকে সাধারণ মানুষের দাবি, রমজান মাসে অসাধু সিন্ডিকেট রুখতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি। বিশেষ করে প্রতিটি দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন তারা। বাজারের এই লাগামহীন দামে সীমিত আয়ের মানুষের রমজানের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

