রাঙামাটি শহরের পুরনবস্তী ১নং ওয়ার্ড এলাকায় অবৈধভাবে জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগের ঘটনা কাভার করতে গিয়ে হামলার চেষ্টার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান।
শুধু তাই নয়, তার ধারণকৃত গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও জোরপূর্বক মুছে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি কথিতভাবে অবৈধভাবে জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেদী হাসান। তিনি বাস্তব চিত্র তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি সন্ত্রাসী কায়দায় তার ওপর চড়াও হয়।
তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলা হয়।
এ ঘটনাকে সাংবাদিক মহল গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ঘটনাস্থলে প্রশাসনের লোক উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এতে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিক মেহেদী হাসান বলেন,
“হামলা, হুমকি কিংবা চাপ দিয়ে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ও ক্যামেরা চলবেই।
সত্য তুলে ধরাই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
রাঙামাটিতে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার চেষ্টা ও তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

