উখিয়া প্রতিনিধি | রেজাউল করিম
তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং, রোজ রবিবার
উখিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম মেনে আবেদন করেও দীর্ঘদিন ধরে মিটার না পাওয়া, অথচ দালালের মাধ্যমে গেলে দ্রুত সংযোগ—এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। অভিযোগের তীর গিয়ে ঠেকেছে উখিয়া উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের কার্যক্রমের দিকে।
স্থানীয়দের দাবি, অফিসে একটি সক্রিয় দালাল চক্র কাজ করছে। দালাল ছাড়া আবেদন করলে ফাইল আটকে থাকে, নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। কিন্তু দালালের হাত ধরে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই মিটার ও সংযোগ মিলছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা সেবার ন্যূনতম নীতির পরিপন্থী।
একাধিক গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি। মাসের পর মাস ঘুরিয়েও কাজ হয়নি। পরে দালালের কথা শুনে গেলে তবেই সংযোগ পাওয়া গেছে।”
আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিল সংশোধন, নতুন সংযোগ—সবখানেই অস্বচ্ছতা। কারা জড়িত, তা তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে।”
এদিকে অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নতুন সংযোগ, বিল সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবায় অনিয়ম নিয়মিত ঘটছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন, অফিসের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি এই অনিয়মে জড়িত থাকতে পারেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ এসেছে অবৈধ সংযোগ নিয়ে। এক গ্রাহক জানান, “আমি আগেও বলেছিলাম, কিন্তু কেউ কানে নেয়নি। দিনে দুপুরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের—লোডশেডিং, ভোল্টেজ সমস্যা আর দেরিতে সেবা।”
এলাকাবাসীর মতে, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে সেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দালালমুক্ত, স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের আহ্বান—বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবা। এখানে অনিয়ম ও দালালির কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলেই কেবল সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।

