মোঃ শাহজালাল, বরগুনা।।
বরগুনার পাথরঘাটায় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক নারী ও এক যুবককে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মিসকেস গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাথরঘাটা আমলি আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখের বিশেষ নির্দেশনায় মিস কেস নং–০২/২৬ (পাথরঘাটা) রুজু করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ মুবিন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ভাইরাল ভিডিওতে এক নারী ও এক পুরুষকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে। এ সময় নারীর কোলের শিশু সন্তানকে আলাদা করে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। প্রাথমিকভাবে শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের উপাদান রয়েছে বলে আদালত মত দেন।
এ ঘটনায় পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে বিস্তারিত তদন্ত করে ১০ মার্চ এরমধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভাইরাল ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের কপি সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ছগির আলমের সমর্থনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন থেকে স্থানীয় দুলাল খন্দকার ঐ নারীকে এলাকা থেকে উৎখাতের হুমকি দেন। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক আফাং।
মানববন্ধনে অন্যান্য একাধিক বক্তা ঐ নারীর সাথে তাদের জমিজমা নিয়ে পূর্বের শত্রুতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। এর আগে নির্যাতনের ঘটনার পর দিন ঐ ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ছেলে সহ ফাঁসিয়ে রশিতে বেঁধে বেদম মারধর করেছে।
ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের জানান, আজ প্রকাশ্যে আমাকে চেয়ারম্যানের লোকজন এলাকা থেকে উৎখাতের হুমকি দিচ্ছে। এ ধরনের হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
স্থানীয় সমাজ উন্নয়ন কর্মী গোলাম কিবরিয়া ঐ নারীকে এলাকা থেকে উৎখাতের হুমকি বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে জানান, “এই ডা কি মগের মুল্লুক! যদি কেহ অপরাধ করে তার জন্য বিচার ব্যবস্থা আছে। প্রচলিত আইন আছে। আইন অপরাধীর অপরাধ অনুযায়ী বিচার করবে। কোনো চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের কোনো অধিকার নাই কোনো মানুষকে এলাকা ছাড়া করার”।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মংচেনলা বলেন, আদালতের থেকে পাওয়া আদেশের বিষয়ে তদন্ত চলছে। যেহেতু বিষয়টি স্পষ্ট ভাবেই ভিডিওতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর গভীর তদন্ত চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে ওই নারী নিরাপত্তার জন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্যঃ রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার তিন মাসের শিশু সন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমন ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় সন্তানকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ঐ নারীর হাত-পা বাঁধা হচ্ছে। এ সময় পাশে শিশু সন্তানটি অনবরত কান্না করতে শোনা যায়। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ছগির আলম পাশে চেয়ারে বসা ছিলেন। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।
মোঃ শাহজালাল, বরগুনা।।

