আসাদুল হক উপজেলা প্রতিনিধী। বাঘা রাজশাহী
এবার রাজশাহীর আম বাগানগুলোতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে আবহাওয়ার অনুকূলতার কারণে। প্রায় প্রতিটি আম বাগানে গাছের ডালে পর্যাপ্ত মুকুল দেখে কৃষকদের চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে গত কয়েক বছর ধরে আম চাষীরা কষ্ট পেয়ে আসছেন, কিন্তু এবারের আশুকূল আবহাওয়া তাদের মুখে হাসি ফোটিয়েছে।
জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা জানান, গত মাস থেকে নিয়মিত বৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত শীতলতা আম গাছের ফলন বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং বগুড়ার বাগানগুলোতে বিশেষ করে মুকুলের পরিমাণ দেখে সবাই উচ্ছ্বসিত। “এবার আমের ফলন লক্ষমাত্রার চেয়েও বেশি হবে বলে আশা করছি। গাছগুলো অসাধারণভাবে সুস্থ,” বলেন স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম। তিনি যোগ করেন, পোকামাকড়ের আক্রমণও এ পর্যন্ত ন্যূনতম, যা ফলনের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও এই আশাকে সমর্থন করছে। জেলা কৃষি অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “আবহাওয়া সত্যিই অনুকূল। আমরা কৃষকদের জন্য সার, কীটনাশক এবং আধুনিক চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। সরকার যদি বাজার সুবিধা, পরিবহন এবং রপ্তানির ব্যবস্থা নেয়, তাহলে এবার রাজশাহী থেকে ১৫ লক্ষ টনের বেশি আম উৎপাদিত হতে পারে।” অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ অঞ্চল থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টন আম উৎপাদিত হয়েছে, যা এবার অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যে, ফলন বাড়লে সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে বাজার তত্ত্বাবধান করতে হবে। এছাড়া, আম রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং এবং কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজন। যদি এসব বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে রাজশাহীর আম চাষীরা শুধু স্থানীয় বাজার নয়, বিদেশি বাজারেও আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে।
এবারের এই সম্ভাব্য বাম্পার ফলন রাজশাহীর অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষক-সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত চেষ্টায় এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

