• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • সংঘবদ্ধ প্রতারণার অভিযোগ: ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসসহ কয়েক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোটি টাকার কেলেঙ্কারি 

     swadhinshomoy 
    08th Mar 2026 12:46 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    রাজধানী ঢাকা থেকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি ট্রাভেল এজেন্সিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, ত্রিধা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আশীর্বাদ স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি এবং আশীর্বাদ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামের প্রতিষ্ঠানগুলো। ভুক্তভোগীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্টরা হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

    অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত প্রধান ব্যক্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিপ্লব। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার পূর্ণ পরিচয়—
    বিপ্লব ভট্টাচার্য, পিতা: মৃত বিনয় ভুষণ ভট্টাচার্য, মাতা: দিপাভূষণ ভট্টাচার্য। জন্ম তারিখ: ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২। স্থায়ী ঠিকানা: দক্ষিণ হীংজাগিয়া, ডাকঘর: হীংজাগিয়া–৩২৩০, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।

    ঘটনার অনুসন্ধানে দৈনিক স্বাধীন সময় পত্রিকার একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডের ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারে অবস্থিত ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর কার্যালয়ে সরেজমিনে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায় অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ। আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস ধরে অফিসে কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। মালিক বা কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমদিকে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা প্রসেসিং এবং ইউরোপে কাজের সুযোগের আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে। বিশেষ করে সার্বিয়া সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুরুতে নিয়মিত যোগাযোগ, কাগজপত্র প্রস্তুতের আশ্বাস এবং দ্রুত ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো ভিসা, টিকিট বা বৈধ ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি।

    অভিযোগে যেসব ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর পরিচালক বিপ্লব (মোবাইল: 01618-842817, +8801837547061), প্রতারক চক্রের সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচিত রনি (মোবাইল: 01823-932792), মাশুক (মোবাইল: +8801672174905) এবং
    আব্দুল্লাহ (মোবাইল: 01799565570, 01799568090)
    আব্দুল্লাহ আলো মুতি
    পিতা: কালা মিয়া
    গ্রাম: ছোট বহুলা
    পোস্ট: রিচি–৩৩০০
    হবিগঞ্জ সদর, হবিগঞ্জ।

    ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব নম্বর ব্যবহার করেই বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ নম্বরই বন্ধ অথবা রিসিভ করা হচ্ছে না।

    ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, প্রথমদিকে সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কোর্ট রোড চৌমুহনা এলাকায় প্রাইম হার্ডওয়্যারের উপরে ১১৫ নম্বর, দ্বিতীয় তলায় আশীর্বাদ স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি এবং আশীর্বাদ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ২১ জনের কাছ থেকে সার্বিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা করে মোট আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
    “আমরা বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে টাকা দিয়েছিলাম। শুরুতে সব ঠিকঠাক মনে হয়েছিল। কিন্তু সময় পার হওয়ার পরও কোনো ভিসা বা কাগজপত্র পাইনি। এখন ফোনও ধরছে না, অফিসও বন্ধ।”

    আরেকজন বলেন,
    “আমরা অনেকেই ধারদেনা করে, জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। এখন আমরা পথে বসেছি। যারা এই কাজ করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।”

    আরও এক ভুক্তভোগী বলেন,
    “প্রথমে আমাদের ঢাকায় ডেকে এনে পাসপোর্ট জমা নিতে বলা হয়। পরে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এখন তারা পুরোপুরি গা ঢাকা দিয়েছে।”

    অভিযোগ রয়েছে, মৌলভীবাজারে কার্যক্রম বন্ধ করে আশীর্বাদ স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি ও আশীর্বাদ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস তালাবদ্ধ করার পর বিপ্লব ঢাকায় এসে ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেন। পরে ত্রিধা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামেও আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর পল্টনের শাওন টাওয়ারে ত্রিধা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি অফিস কয়েক মাস পরিচালনার পর ভাড়া বকেয়া রেখে হঠাৎ করেই অফিস ছেড়ে চলে যায় সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পল্টন চায়না হাট সংলগ্ন একটি ভবনের ৫ম তলায় তানিয়া এয়ার ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চেয়ার-টেবিল ভাড়া নিয়ে কয়েক মাস অফিস পরিচালনার পর প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা ভাড়া পরিশোধ না করেই চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    তানিয়া এয়ার ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃপক্ষ জানান, তারা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সম্মানের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করলেও এই ঘটনার কারণে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা ভুলবশত তাদের অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং ভবন কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত তাদের অফিস ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

    অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে পাঠানোর নামে সংগৃহীত অর্থের লেনদেনে আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, সার্বিয়ায় পাঠানোর নামে সংগ্রহ করা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সম্পূর্ণ লেনদেন তার কাছেই জমা দেওয়া হয়েছিল

    অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক কর্মচারীকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তবে কয়েক মাস কাজ করার পরও তারা কোনো বেতন পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা হতে পারে। প্রতারণার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বিনিয়োগ সংগ্রহ, প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে যাওয়া—এসব বিষয় একটি সুস্পষ্ট প্রতারণার প্যাটার্ন নির্দেশ করে।

    ভুক্তভোগীদের কয়েকজন ইতোমধ্যে বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানা গেছে। অনেকেই সম্মিলিতভাবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দ্রুত তদন্ত শুরু করে দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে দৈনিক স্বাধীন সময়–এর কাছে এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি, লেনদেনের তথ্য এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    যারা ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, ত্রিধা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আশীর্বাদ স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি অথবা আশীর্বাদ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে চান, তাদের দৈনিক স্বাধীন সময়–এর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    যোগাযোগ: ০১৪০৭০২৮১২৯

    এই ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি এখন তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
    দৈনিক স্বাধীন সময় এ বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পরবর্তী প্রতিবেদনে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    March 2026
    S M T W T F S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    293031