মিজানুর রহমান মুবিন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের জুরকাঠী গ্রামে এনজিওর ঋণের চাপে রবিউল ইসলাম মিলন (৩৩) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জুরকাঠী গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম মিলন জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তবে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় তিনি ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খেতে থাকেন। একাধিক প্রতিষ্ঠানের কিস্তির চাপ ও আর্থিক সংকটে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায়ই ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন মিলন। বিষয়টি নিয়ে তিনি অনেক সময় অস্থিরতা ও হতাশার কথাও প্রকাশ করতেন।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) সেহরির পর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, গ্রামে অনেকেই একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিস্তির চাপে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা বলেন, ক্ষুদ্রঋণের নামে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ অনেক সময় মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে।
এ বিষয়ে নলছিটি থানার এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে ঋণের চাপকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্রঋণের চাপকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার ঘটনা মাঝে মাঝেই সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ ও আদায় প্রক্রিয়ায় আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণের দাবি জানিয়েছেন।

