নিজস্ব প্রতিনিধ মোঃ তপছিল হাছানঃ
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ধনারপাড় এলাকায় বারু মিয়াজি বাড়ি জামে মসজিদের রাস্তা সংস্কারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসমাম হোসেন।
জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধনারপাড় মতলব–পেন্নাই সড়ক থেকে প্রায় ৪৫০ ফুট দূরে অবস্থিত বারু মিয়াজি বাড়ি জামে মসজিদ মাঠ পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে এলাকার মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনা করে এডভোকেট আব্দুল মান্নান মিয়াজি ও সাদ্দাম হোসেন বেপারী সরকারি বরাদ্দ আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরবর্তীতে রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়, যা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, এ টাকা গোপন রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনার জেরে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ধনারপাড় বারু মিয়াজি বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মো. আ. মতিন মিয়াজীকে সাদ্দামসহ সাতজন মিলে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। পরে অসুস্থ হয়ে তিনি ব্রেন স্ট্রোক করলে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম ইসমাম হোসেন অভিযোগকারী এডভোকেট মো. আবদুল মান্নান এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলা বি.এস সভাপতি এনামুল হক বাদলসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
আলোচনার প্রেক্ষিতে ধনারপাড় বারু মিয়াজি বাড়ি জামে মসজিদের রাস্তার কাজ এডভোকেট আব্দুল মান্নানদের জমির ওপর দিয়ে এককভাবে করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১১ মার্চ ২০২৬) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসমাম হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধনারপাড় বারু মিয়াজি বাড়ি জামে মসজিদের রাস্তার মাটি ভরাটের সম্ভাব্য স্থান, মসজিদের বেদখলকৃত জমি এবং মসজিদের দলিলের সঙ্গে বি.এস খতিয়ানের অসামঞ্জস্য বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজখবর নেন।
এ সময় এডভোকেট আব্দুল মান্নান মিয়াজি বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার জমির ওপর দিয়ে ধনারপাড় বারু মিয়াজি বাড়ি জামে মসজিদের রাস্তা নির্মাণে আগ্রহী। এতে তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষও বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারবে।
তার এ বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করে ইউএনও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-কে আগামী ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।
এছাড়া তিনি মসজিদের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মসজিদের দলিলের সঙ্গে বি.এস খতিয়ানের নামের অসামঞ্জস্য থাকলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় স্থানীয় মুসল্লি, এলাকাবাসী, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটবে এবং এলাকায় শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে।

