আন্তর্জাতিক:
সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন)-কে একটি একান্ত সাক্ষাৎকার দেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হারিনি অমরাসুরিয়া।
সাক্ষাৎকারে হারিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা-চীন সম্পর্ক এখন একটি নতুন ও আরও স্থিতিশীল পর্যায়ে প্রবেশ করছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অঙ্গীকার ও বিশ্বাসের ওপর নির্মিত শ্রীলঙ্কা-চীন সম্পর্ক একটি সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মডেল হয়ে উঠবে, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
তিনি বলেন, চীন ইতিহাস সংরক্ষণে চমৎকার কাজ করেছে। এটি শুধু ইতিহাস সুরক্ষার ওপরই জোর দেয় না, বরং তরুণ প্রজন্মকে অতীতের বীরত্বপূর্ণ কাজ ও সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিতে, আজকের সাফল্য যে কষ্টার্জিত তা বুঝতে এবং ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা মনে রাখতে পথ দেখানোরও চেষ্টা করে। চীনের সাফল্য কোনো অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম নয়। আজ বিশ্বজুড়ে চীনের অবস্থান শুধু পণ্য উৎপাদন ও তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা উদ্ভাবন ও অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বমঞ্চে চীন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে চলেছে এবং পথ দেখাচ্ছে। আমি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করেছি: প্রথমত, নেতৃত্বের অঙ্গীকার ও নিষ্ঠা; দ্বিতীয়ত, আত্ম-শৃঙ্খলা; এবং তৃতীয়ত, সর্বদা জনগণের কল্যাণের চূড়ান্ত লক্ষ্যের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা। চীনের বৈপ্লবিক যাত্রার মূল লক্ষ্য সর্বদাই ছিল জনগণের সেবা করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে যে এই পথ সফল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বর্তমানে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। আমরা এক আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে বাস করি। চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ‘মানবজাতির জন্য একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ’-এর ধারণাকে আমাদের অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে এবং একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমার মনে হয়, বর্তমান বহুপাক্ষিকতার প্রতি চীনের অঙ্গীকার ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায্য ও অবাধ বাণিজ্য সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে চীনের অঙ্গীকারও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ অভিন্ন ভবিষ্যৎ, যৌথ আধুনিকীকরণ এবং যৌথ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন সরকার শ্রীলঙ্কার মহাসড়ক, অবকাঠামো, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার বন্দরনগরী ও সমুদ্রবন্দরে চীনের বিনিয়োগ সহযোগিতার ফলাফলকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত করে। ভবিষ্যতে, চীন ও শ্রীলঙ্কা সবুজ শক্তি, শিক্ষা আধুনিকীকরণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা আরও গভীর করবে, যা শ্রীলঙ্কার উন্নয়নে ক্ষমতায়ন ও অবদান রাখবে।
সূত্র: ছাই-আলিম-প্রেমা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

