আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রামে ভূমি কর্মকর্কতা(এ্যাসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলামকে “ভাই” বলে সম্বোধন করায় তিনি চটে গিয়ে সাংবাদিককে বললেন- “ধুর” মিয়া আমি কী সাধারণ মানুষ। এঘটনায় তাৎক্ষণিক তুলকালাম শুরু হয়।
গতকাল ৫ এপ্রিল রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌর শহরের সাহা ফিলিং স্টেশনে এক সাংবাদিকের সাথে এমন অপমান জনক আচরণ করেন তিনি।
জানা যায়, রোববার সকাল থেকে ফিলিং স্টেশনটিতে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তেল সরবরাহ করছিলো কর্তৃপক্ষ। দুপুরের দিকে ফিলিং স্টেশনটি পরিদর্শনে আসেন ওই ভুমি কর্মকর্তা। এসময় দেশ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জুয়েল রানা ফিলিং স্টেশনে কি পরিমাণ তেল গ্রাহকদের দেয়া হচ্ছে জানার জন্য ওই এ্যাসিল্যান্ডকে “ভাই” সম্বোধন করে কথা বলার শুরুর মুহূর্তেই তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমাকে দেখে কী সাধারণ মানুষ মনে হয় এমন উল্টো প্রশ্ন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের সঙ্গে একপ্রকার অপমান সূলভ আচরণ করেন। এতে তুলকালাম শুরু হয়।
এ বিষয়ে দেশ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জুয়েল রানা বলেন, আমি দুপুরের দিকে সাহা ফিলিং স্টেশনে তথ্য নিতে যাই এবং এসিল্যান্ডকে “ভাই” বলামাত্র আমাকে উনি প্রশ্ন করে বলেন, কেন আমাকে ভাই বললেন, আমাকে কী সাধারণ মানুষ মনে হয়। আমাকে ভাই বললে- সাধারণ মানুষ ভাববে আপনার সাথে আমার স্বজনপ্রীতি রয়েছে। এ সময় পাম্পে তেল নিতে আসা এক উৎসূক যুবক আকস্মিক বলে উঠেন- ভাই বললেন কেন জুয়েল ভাই ওনাকে দুলাভাই বলা উচিৎ ছিলো। এমন কথা বলতেই পরিস্থিতি একটু বেগতিক মনে হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে নেন।
সাংবাদিক জুয়েলরানা এও বলেন, এসিল্যান্ডকে ‘স্যার” না বলার কারণেই মূলতঃ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তিনি এবং জনগণের সামনে আমাকে এসব কথা বলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেন।
এসিল্যান্ডকে স্যার বলতে হয় এমন নিয়ম আমার জানা নেই।
এ ব্যাপারে জানতে কুড়িগ্রাম সদরের ভুমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করার পর তিনি ফোন রিসিভ করে আবারও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং বলেন, বার বার কল করার কারণ জানতে চান। পরে তার কাছে সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার বলতে সাধারণ মানুষ বাধ্য কি না, জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
কোন সরকারি কর্মকর্তার অধিনস্ত নয় এমন সাধারণ মানুষ কোন সরকারি কর্মকর্তাকে স্যার সম্বোধন করা বাধ্যতামূলক কি না- জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আইনজীবী বলেন, কাউকে “স্যার” সম্বোধন করার কোন বিধান নেই। তবে প্রচলিত নিয়মে স্যার বলা এবং না বলাকে কেন্দ্র বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে বিরোধ দেখা দেয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুছ সরকারের সময় স্যার সম্বোধনের বিষয়টি বিলুপ্ত করার জন্য সংশোধনী আইন পাশের কমিটি করা হয়েছিলো। কমিটি সর্বশেষ কি রিপোর্ট দিয়েছিলো- এই মুহুর্তে জনেন না বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক জুয়েল রানা এও বলেন, কয়েকদিন আগে, ওই এ্যাসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, “প্রকাশ্য নিলাম ব্যাতিরেখে গোপনে একটি নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করার খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই প্রেক্ষিতেও তিনি সাংবাদিকদের ওপর চরম ক্ষোভে এধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে থাকতেও পারেন।

