ঠাকুরগাঁওপ্রতিনিধী: ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের সরকারি সম্পদ লুটপাটের এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মিলের সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ চিটাগুড় (মোলাসেস) চুরি করে পাশের একটি কবরস্থানে ড্রামভর্তি অবস্থায় লুকিয়ে রাখার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মিলের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন স্থানী
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ঠাকুরগাঁও সুগারমিল থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও উৎপাদিত পণ্য পাচারের গুঞ্জন ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে মিলের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে বেশ কিছু ড্রাম বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকালে মিল সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কবরস্থানে ঝোপঝাড়ের নিচে ড্রামগুলো পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে ড্রামগুলো খুলে তাতে মিলের প্রক্রিয়াজাত চিটাগুড় শনাক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ মতে
এলাকাবাসীর দাবি, মিলের ভেতরকার শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট এই চুরির সাথে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান:
”রাতের আঁধারে মিলের লোকজনের সহায়তায় এসব ড্রাম বের করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিতেই পবিত্র কবরস্থানকে তারা পণ্য লুকিয়ে রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে।”
সুগারমিল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মিল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চুরির সাথে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত চিটাগুড়ের ড্রামগুলো জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমানে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

