আবু বকর সিদ্দিক:- মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভূমি অফিসের সামনে মাওয়া-লৌহজং-বালিগাঁও সড়ক অবরোধ করা হয়।এ সময় প্রায় ৩০ মিনিট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীরা এসিল্যান্ড অফিসের সহকারী (উমেদার) মো:ইমন হোসেন ও গাড়িচালক আল-আমিনের অপসারণ দাবি জানান।তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম,ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে,ইমন হোসেন এসিল্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন।ভূমি সংক্রান্ত কাজে ভুলত্রুটি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও তুলে ধরা হয়।স্থানীয়দের দাবি,স্বল্প বেতনের চাকরি করেও অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।তার বাড়িতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা টিনশেড ঘর নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়।অপরদিকে,গাড়িচালক আল-আমিনের বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি ও খাসজমি দখলের অভিযোগ ওঠে।
এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে নিয়মিত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।মানববন্ধনে ভুক্তভোগী অরুণ মাঝি,জসীম মোড়ল,মোখলেস মিয়া ও পিয়ারা বেগম বক্তব্য দেন।
তারা বলেন,ঘুষ ছাড়া ভূমি অফিসে কোনো কাজই সম্পন্ন হয় না।পিয়ারা বেগম জানান,নামজারি করতে গিয়ে তার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের অপসারণের আল্টিমেটাম দেন।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এসিল্যান্ড অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমন হোসেন ও আল-আমিন।তারা দাবিকরেন,অভিযোগগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসিত সাত্তার বলেন,অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

