রিটন ইসলাম
ঢাকা রেশনিং প্রধান নিয়ন্ত্রক কার্যালয় এখন ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অফিসের ভেতরে বসেই প্রকাশ্যে ঘুষের দরদাম এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ক্যাশ বিকাশের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে দুই প্রভাবশালী কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন—প্রশাসন শাখার হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সৈকত মিয়া।
অভিযোগের বিবরণ:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ সেবাগ্রহীতা এবং ওএমএস ডিলারদের বিভিন্ন ফাইল ছাড় করা ডি’ও (বিলি আদেশ)এবং প্রশাসনিক কাজ দ্রুত করে দেওয়ার নামে এই দুই কর্মচারী বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অফিসের ডেস্কে বসেই তারা সরাসরি টাকা দাবি করেন এবং প্রমাণের ঝুঁকি এড়াতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিকাশের মাধ্যমে ঘুষের টাকা গ্রহণ করেন। বিশেষ করে সৈকত মিয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকার সুবাদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান এবং ফাইল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিকাশে লেনদেন:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, নগদ টাকার পরিবর্তে তারা সাইদুল ও সৈকতকে নির্দিষ্ট কিছু বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বাধ্য হন। অফিসের ভেতর বসে বসেই তারা এসব লেনদেন তদারকি করেন এবং টাকা পাওয়ার পরেই কেবল ফাইলের পরবর্তী কাজ সম্পন্ন হয়।
প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য:
অফিসের ভেতরে বসেই তারা কীভাবে এ ধরনের অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সাধারণ কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘুষের টাকা না দিলে সাধারণ ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এই বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ, এইচ, এম কামরুজ্জামান বলেন,এ ব্যাপারে আমি কোনো বক্তব্য দেব না। আমাকে ডকুমেন্টস পাঠান,বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ও সৈকত মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

