ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুল মান্নানকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে একটি কুচক্র মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ডিলারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। রেশন কার্ড ছাড়া চাল না দেওয়ায় ওই মহল বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি ও অপবাদ ছড়িয়ে ডিলারকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীকে ভুল তথ্য সরবরাহ করে ‘হতদরিদ্রের রেশন চালে ডিলারের কারসাজি’ শিরোনামে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ইউসুফ মাতব্বর, আঃ মালেক ফকির, আঃ খালেক পাটোয়ারীসহ বহু নেতা জানান, ডিলার আব্দুল মান্নান সরকার নির্ধারিত ১৫ টাকার বেশি কখনো নেন না এবং ৩০ কেজি চাল নির্ধারিত দামেই দেন। এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বা চাল কম দেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে কার্ডধারী গৃহবধূ আছমা বেগম জানান, কিছু ব্যক্তি তার ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে ঘরের আট বস্তা মালামালকে রেশন চাল হিসেবে প্রচার করেছে। বাস্তবে এক বস্তা ছিল সরকারি চাল, আর বাকিগুলো ছিল ধান, কুড়া, নারিকেল ও অন্যান্য গৃহস্থালির জিনিস। এ ঘটনায় তিনি অপমানিত হন এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
ডিলার আব্দুল মান্নান দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল তার সম্মানহানি করতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি নিয়ম মেনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করে থাকেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে চরফ্যাশনের খাদ্যবান্ধব নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক একজন ইন্সপেক্টর পাঠান। তদন্তে গৃহবধূর বাসায় এক বস্তা চাল পাওয়া যায় এবং ডিলারের স্টক কার্ডধারীদের বরাদ্দের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

