বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি। মোঃ রাকিবুল ইসলাম
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ফকিরহাট বাজারের নিউ চায়না ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে অবস্থিত শামীম মোটরস নামক মোটরসাইকেল শোরুম ও গ্যারেজে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন শোরুমের পার্টনার ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম রবি। তার মাথার বাম পাশে ছুরির কোপ লাগে, পরে হাসপাতালে তিনটি সেলাই দিতে হয়।
অপর পার্টনার মোঃ শামীম শেখ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় দোকানদারদের ভাষ্যমতে, ছয়জন সন্ত্রাসী দলবদ্ধভাবে শোরুমে প্রবেশ করেই হাতে থাকা চাপাতি ও ছুরি দিয়ে হামলা শুরু করে।
একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা শোরুমের ভেতর শামীম ও রবি দুজনকেই মারধর করে।
রবিকে লক্ষ্য করে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হলে তার মাথায় গভীর কোপ লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার সময় রবির প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। ওই টাকা দিয়ে পরদিন সকালে মোটরসাইকেল কেনার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শামীম শেখ জানান, তিনি রামপাল উপজেলার বাসিন্দা হলেও প্রায় তিন বছর ধরে ফকিরহাটে ব্যবসা করে আসছেন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা রবির সঙ্গে পার্টনারশিপে শামীম মোটরস নামে ব্যবসা শুরু করেন।
এর আগে একটি সন্ত্রাসী চক্র তাদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি করত। কিন্তু রবি পার্টনার হওয়ার পর তারা আর চাঁদা আদায় করতে পারছিল না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি অভিযুক্তদের একজন তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ৬৫ হাজার টাকায় শোরুমে বিক্রি করেন। নগদ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও ৫ হাজার টাকা বাকি থাকে।
অন্যদিকে শামীমের দাবি, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে তার ১৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এই টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়।
হামলার পর অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে জানায়—শত্রুতা শামীমের সঙ্গে নয়, মূল লক্ষ্য রবি। কারণ রবি ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পর তারা আর চাঁদা তুলতে পারছে না।
এছাড়া ঘটনার পরদিন সকালে রবির বাবাকে, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের নাম হিসেবে উঠে এসেছে—
হেলাল, রনি, সোহেল, বক্কার, সাকিব ও অপু বাজল। এছাড়া হেলালের স্ত্রী কেয়া বেগম মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ফকিরহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী শামীম শেখের বাবা জানান, তার ছেলের ওপর প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার তদন্ত চলছে

