শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র জয়পাড়া, পালামগঞ্জ ও কাঁচারিঘাট বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ এবং নতুন দেশি আলুর দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে শীতকালীন সবজি। গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) সকালে দোহারের ৩ টি বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও দাম কমেনি। বরং প্রতিটি সবজির দামই ঊর্ধ্বমুখী। তবে মুলা ও পেঁয়াজের দামে দেখা গেছে নিম্নগতি এবং নতুন আলুর দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা), পাতাকপি ৪০ টাকা (গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা), শিম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা এবং বরবটি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা।
তবে স্বস্তির খবর হলো শাকের বাজারে। শীতকালীন শাকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় লাল শাক, পালং শাক ও সরিষা শাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। সবজির দাম বাড়লেও স্বস্তি মিলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পেঁয়াজ ও নতুন আলুর বাজারে। বর্তমানে মুলা ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জয়পাড়া বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. আলী বলেন, “বাজারে একযোগে দেশি পেঁয়াজের বড় চালান আসায় গত সপ্তাহের তুলনায় দাম অনেকটাই কমেছে। সরবরাহ এমন থাকলে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।” নতুন আলুর বাজারজাতকরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর দামও এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে। বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা জানান, পেঁয়াজ ও আলুর দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হলেও সবজির বাড়তি দাম তাঁদের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলছে। শীতের এই সময়ে সবজির দাম কমার কথা থাকলেও উল্টো বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

