আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি।
যমুনা সেতু এলাকায় ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সদস্য সচিব জাবেরসহ অন্যান্য কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল হয় । আজ সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও ইনকিলাব মঞ্চের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এক বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যমুনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবের এবং মঞ্চের অন্যান্য কর্মীদের ওপর পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ন্যাক্কারজনক এই হামলার বিচার ও প্রতিবাদ জানাতেই তাৎক্ষণিক এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি
আজ ৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
সাইফুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, জুলাই সংগ্রামের মহাবীর ভারতীয় অধিপাত্যবাদের বীরুদ্ধে সংগ্রামকারী শহীদ ওসমান বিন হাদির আজ ৫৪ দিন হওয়া পরেও হত্যা বিচার এই সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি। তার বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য আমাদের ইনকিলাবের ভাইয়ের শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করছেন। তাদের উপরে পুলিশ যে নিমর্ম ভাবে হামলা চালিয়েছে তার জন্য আমরা এখন থেকে প্রতিবাদ জানাই এবং একই সাথে ইন্টারিং গর্ভরমেন্টকে বলতে চাই তাদের হাতে আর ৭ দিন সময় আছে এর মধ্যে হাদি ভাইয়ের বিচার জন্য জাতিসংঘের কাছে হস্তান্তর করেন। জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় আমার হাদি ভাইয়ের বিচার দেখতে চাই।
আমার দৃদৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই আমার আমাদের অধিকার চাই আমাদের হাদি ভাইয়ের বিচার চাই।
নাজমুল ইসলাম ঢালী বলেন, আপনার জানেনস হাদি ভাইয়ের গুলিবুদ্ধের আজ ৫৪ দিন। সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় বিচার জন্য আন্দোলন করছি। আমার সরকারি কাছে বিচার চাইছি কিন্তু আমার কোন অশ্বাস দিতে পারে নি। এই জন্য গতকাল রাতে আপনার জানেন যে হাদি ভাইয়ের স্ত্রী পর্দানশীল একজন নারী কিন্তু তাকে এই সরকার রাস্তায় বের করতে বাধ্য করেছে। আর ইনকিলাব মঞ্চের ভাইয়ের হত্যা বিচার জন্য যমুনার সামনে গিয়ে ছিলো আর কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। কিন্তু অন্তঃবর্তিকালীন সরকার কোন অশ্বাস দিতে পারে নাই। উল্টো পুলিশ দিয়ে হামলা করাইছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ইনকিলাব মঞ্চের মূখ্য আহব্বায়ক আতিক আব্দুল বলেন, ” ইনকিলাব মঞ্চ সেন্টার প্রধান উপদেষ্টা বাসবভন যমুনা সামনে গিয়ে ছিলো শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি করার জন্য এবং কর্মসূচি উদ্দেশ্য ছিলো শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যা বিচার যেন জাতিসংঘ করে। আমি সম্মানিত উপস্থিত এবং সারাদেশ বাসিকে জানাতে চাই এমন একটা যুক্তিক দাবির বিপক্ষে প্রধান উপদেষ্ট তার স্পস্ট বিবৃতিতে জানান যে আমাদের দাবিটা অযুক্তি এবং পুলিশ কোন লাঠিচার্জ করেনি। বাংলাদেশের কোন প্রশাসন গিয়ে কোন হয়রানি করেনি। আমি প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যে কে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এই বলে আমার ইনকিলাব মঞ্চে বতর্মান মূখ্যপাত্র আবদুল্লাহ আল জাবের ভাই মারাত্মক ভাবে আহত, আমাদের সালাউদ্দিন আম্মার ভাই আহত হইয়েছন এবং বাজে ভাবে আহত হইছেন। একই সাথে আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের শ্রেষ্ট নারী সংগঠক জুম্মাকে পুলিশের বুট দিয়ে লাথি মারা হইছে পাড়ানো হইছে এক কথায় । যেখানে বতর্মান প্রধান উপদেষ্টা যিনি পুরো বাংলাদেশ মানুষ কে হোল্ড করছেন পুরো ইনকিলাব মঞ্চকে কন্ঠ কে হোল্ড করছেন তার মুখ থেকে এমন ধরনের বিবৃতিকে তার এমন ধরনের মস্তিষ্কের চিন্তা কে আমি তীব্রভাবে প্রত্যক্ষন করছি। প্রধান উপদেষ্টা আরো উল্লেখ্য যে আজ যমুনা সামনে আমাদের এই কর্মসূচি নাকি নির্বাচনী কোন জটিলতা ঘটাছেন কি না বা নির্বাচন কে সাথে সম্পৃক্তি কি না। আমি স্পষ্ট করতে চাই আমার এই ইনকিলাব মঞ্চ কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। প্রধান উপদেষ্ট আপনি অবশ্যই অবগত আছেন যে এইটা একটি অরাজনৈতিক এবং সংস্কৃতিক সংগঠন। যেখানে রাজনীতির সাথে বিন্দু পরিমান কোন সম্পৃক্ততা ও সংযুক্ত নাই। আমাদের ইনকিলাব মঞ্চ সম্পূর্ণ একটা সাংস্কৃতিক সংগঠন। যার উদ্দেশ্য সাংস্কৃতির বিপ্লব ঘটানো। ইন্ডিয়ান কালচার ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে। সেখানে নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ততা আসার যুক্তিটা কোথায়
কে অযুক্তিক বলেন। আমি স্পষ্ট ভাবে জানাতে চাই আজ আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের ভাইদের উপরে নেকটা জনক হামলা হইছে তারা একটা যুক্তির দাবির জন্য যমুনাতে গিয়ে ছিলেন তাদের উপরে যে হামলা হইছে আমি তার বিচার চাই যে কোন মূল্য। সকল হামলা কারীদের খোঁজ বিচার আওতায় আনা।”
কর্মসূচিটির আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

