মোঃ আব্দুল মালেক
ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত নাগরিকদের ওপর পুলিশের হামলা একটি গভীর উদ্বেগজনক ঘটনা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার দাবি করা নাগরিকের সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগের সময় রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা হামলা চালানো কেবল অনৈতিকই নয়, এটি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
বাংলাদেশের সংবিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদও একই কথা বলে। অথচ যখন কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করতে গিয়ে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর লাঠিচার্জ, মারধর কিংবা হয়রানি চালানো হয়, তখন তা রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এতে শুধু ভুক্তভোগীরাই নয়, পুরো সমাজের ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা নষ্ট হয়।
পুলিশ বাহিনী রাষ্ট্রের সেবক। তাদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু যখন সেই পুলিশই বিচারপ্রার্থীদের কণ্ঠরোধ করে, তখন তা ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন আরও বাড়বে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলতে থাকলে মানবাধিকার কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, বাস্তবে তা পরাজিত হবে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করা কোনো অপরাধ নয়। বরং বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যারা বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা মানবাধিকারের শত্রু। তাদের আইনের মুখোমুখি করাই ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের একমাত্র পথ। অন্যথায়, আজ ওসমান হাদি, কাল অন্য কেউ—বিচারের আশা হারিয়ে সমাজ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।

