মোঃ শাহজালাল, বরগুনা থেকে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন প্রশাসন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে ইতোমধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরাও ইউনিয়নভিত্তিক বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছে অবস্থান নিয়েছেন।
জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৩১২টি এবং ভোটকক্ষ ১ হাজার ৮৭৪টি। ভোটগ্রহণের আগের রাতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ গড়ে ১৬ থেকে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে থেকে পরিস্থিতি তদারকি করবেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম জানান, বরগুনা-১ আসনে ১৯০টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১৩৩টি ভোটকক্ষ এবং বরগুনা-২ আসনে ১২২টি কেন্দ্রে ৭৪১টি ভোটকক্ষ রয়েছে। জেলায় মোট ভোটার ৮ লাখ ৫৭ হাজার ২০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৭০ জন, নারী ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৩০ জন, হিজড়া ১৫ জন এবং পোস্টাল ভোটার ১১ হাজার ২৫৮ জন।
বরগুনা-১ আসন
বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। পুরুষ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮৫ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭৬ জন, হিজড়া ১১ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৬ হাজার ২৮৭ জন। ভোটকেন্দ্র ১৯০টি। এখানে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বরগুনা-২ আসন
বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৫ জন, নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৪ জন, হিজড়া ৪ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ১ জন। ভোটকেন্দ্র ১২২টি। এখানে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী আলহাজ নুরুল ইসলাম মনি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের মধ্যে জমজমাট লড়াই হবে বলে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
৫১ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আমতলী উপজেলায় ১৮টি, সদর উপজেলায় ৮টি, পাথরঘাটায় ১০টি এবং তালতলী, বামনা ও বেতাগীতে ৫টি করে কেন্দ্র রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মিজ তাসলিমা আক্তার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তবে জেলার সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
সব মিলিয়ে বরগুনায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। ব্যালট ও সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ভোটের মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত।

