মোঃ জাহিদ হোসেন
সাংবাদিক,উত্তরা
দৈনিক স্বাধীন সময়
আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে ফুল, রং আর আনন্দে মুখরিত বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ। হিম হিম ঠান্ডা বাতাসে ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ, প্রজাপতি আর মৌমাছির ডানা মেলার মুগ্ধতায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নবজাগরণের বার্তা। প্রকৃতি যেন শীতের নির্জীবতা ঝেড়ে ফেলে নতুন প্রাণে সেজেছে।
রাজধানী ঢাকার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই মানুষের ঢল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আশপাশের ফুলের দোকানগুলো সেজেছে এক একটি রঙিন বাগানের মতো। গাঁদা, পলাশ, শিমুল, রজনীগন্ধা ও গোলাপের মালা হাতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। টিএসসি মোড়, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং রমনা পার্ক-এ দিনভর বসন্তবরণ অনুষ্ঠান, গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
নারীদের বাসন্তী রঙের শাড়ি আর চুলে গাঁথা ফুল, পুরুষদের পাঞ্জাবিতে হলুদ-কমলার ছোঁয়া—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য বাঙালিয়ানা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী ও বয়োজ্যেষ্ঠ—সবাই অংশ নিয়েছেন এই উৎসবে। অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন বসন্তের শুভেচ্ছা।
ঐতিহ্যগতভাবে বসন্তবরণে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সকালবেলা দলীয় কণ্ঠে বসন্তের গান পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি ও লোকগানের আসর—এসব আয়োজনে উঠে এসেছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতা। শহীদ বীর ওসমান হাদী চত্বরসহ বিভিন্ন প্রাঙ্গণে ছিল স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম।
পশ্চিমবঙ্গেও একই আবহ। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আয়োজনে বসন্ত উৎসব উদ্যাপিত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তোৎসব ঘিরে রঙের আবেশে মেতেছে শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
প্রকৃতির নবায়নের এই উৎসব শুধু ঋতু পরিবর্তনের বার্তাই নয়, বরং নতুন আশার প্রতীক। দীর্ঘ শীতের অবসান ঘটিয়ে বসন্ত যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবন মানেই পুনর্জন্ম, নতুন সূচনা। ফুলের সুবাস, রঙের উচ্ছ্বাস আর মানুষের মিলনমেলায় পহেলা ফাল্গুন আবারও প্রমাণ করল, বাঙালির সংস্কৃতি তার প্রাণশক্তিতে চিরসবুজ।

