আ. রহিম গাজী, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনের নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন-কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া-র কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন,
স্থানীয়দের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর থেকে পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি থেকে কোনো মন্ত্রী না থাকায় এ জনপদ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের এই উপকূলীয় আসনটি অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ অঞ্চলে রয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দর, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, আকর্ষণীয় সোনার চর এবং উপকূলীয় জনপদ জাহাজমারা-সহ একাধিক সম্ভাবনাময় এলাকা। পাশাপাশি বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন এ বি এম মোশাররফ হোসেন। এলাকাবাসী তার এ বিজয়কে উন্নয়নমুখী রাজনীতির পক্ষে স্পষ্ট গণরায় হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন এবং সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন।
রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়ার মানুষের প্রত্যাশা—এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, পর্যটন খাতের আধুনিকায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ আসন থেকে একজন মন্ত্রী প্রয়োজন। তাদের মতে, মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেলে পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, কুয়াকাটা পর্যটনের আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন এবং উপকূলীয় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় জনগণ ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা তারেক জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—পটুয়াখালী-৪ আসনের উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এ বি এম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রীত্ব প্রদান করা হোক।
যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, তবু এলাকাবাসীর জোরালো দাবি—উন্নয়ন ও সম্ভাবনার স্বার্থে এবার পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে একজন মন্ত্রী দেখার সময় এসেছে।

