সারোয়ার নেওয়াজ শামীম, হবিগঞ্জ, প্রতিনিধি ঃ তরুণ উদ্যোগক্তা,ব্যবসায়ী থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ও আলোচিত মুখ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূল রাজনীতি ও অভিজ্ঞতা তাকে একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তার দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের ইতিহাস রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সমর্থকরা।
ব্যবসা থেকে জাতীয় নেতৃত্বে: হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের সৈয়দ মোঃফয়সল। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক ও এলাকার মানুষের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
১৯৯০ সালে হবিগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। প্রায় ১৯বছর একটানা জেলা বি এন পি,র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে কেন্দ্রীয় বি এন পি,র সদস্য নির্বাচিত হন।
বর্তমানে তিনি বিএনপির তৃণমুল কে সর্বোচ্চ কার্যক্রম পরিচালনা ও রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়নে তিনি অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত। দলের দুঃসময়ে কৌশলী ও পরিমিত বক্তব্যের জন্যও তিনি পরিচিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর ) আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী এস, এম, ফয়সলকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের পর থেকেই দুই উপজেলায় এ নিয়ে আলোচনা-প্রত্যাশার জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বর্ষিয়ান নেতা সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সভাপতি এস, এম, ফয়সল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো: গিয়াস উদ্দিন ওরফে তাহেরি (মোমবাতি) প্রতীকে পেয়েছেন, ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। তিনি প্রায় এক লাখের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে বিজয়ের পর থেকেই চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলার স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে দাবি উঠেছে এ আসনের প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিলে অবহেলিত এ জনপদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে চা বাগান, পর্যটন, শিল্প, কৃষি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।ফয়সল সাহেব দ্বারা এ খাত রক্ষা করা সম্ভব।
উপজেলার রানীগাও ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক আবদুল খালেক বলেন, “আমরা ধান চাষ করে বাঁচি। কিন্তু ভালো রাস্তা না থাকায় ন্যায্য দাম পাই না। আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য শক্ত অবস্থান দরকার। তাই আমরা চাই যেন এস, এম, ফয়সল ভাই আমাদের মন্ত্রী হোন।”
চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, “আমরা সীমান্তঘেঁষা এলাকায় থাকি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে আছি। এলাকায় শিল্প-কারখানা নেই, কর্মসংস্থানের সুযোগও কম। তাই আমরা চাই যেন এস, এম, ফয়সল ভাই আমাদের মন্ত্রী হন, তাহলে পুরো হবিগঞ্জ জেলাসহ দেশ এগিয়ে যাবে।
চা শ্রমিক নেত্রী নেতুবৃন্দ বলেন, ফয়সল ভাই মন্ত্রী হলে চা শ্রমিকদের উন্নয়নসহ চুনারুঘাট ও মাধবপুরবাসী উপকৃত হবেন।
আমাদের দাবি ফয়সল সাহেব কে মন্ত্রী করা হউক।

