গাজীপুর প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪২ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারালেন ৩২ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী নির্বাচনে প্রদত্ত বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ (আট ভাগের এক ভাগ) না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নি কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর উপজেলা ও গাজীপুর সিটির বাসন, কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর থানা) আসনে আটজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে (বিএনপি-জামায়াত জোট ছাড়া) ছয় জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুল ইসলাম বাবুল (৩৩২৫ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইমারত হোসেইন খান (৬৭০৩ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন (৫৬৯৬ ভোট), কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী তসলিমা আক্তার (২৩২ ভোট), আনারস প্রতীকের প্রার্থী চৌধুরী ইরাদ আহমদ সিদ্দিকী (১৬৮ ভোট) ও মাছ প্রতীকের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম (১২৯ ভোট)।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ মজিবুর রহমান ২ লাখ ৮ হাজার ৬৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহ আলম বকশী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫৩ ভোট।
গাজীপুর- ২ (গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত) আসনে বার জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে দশ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ সরকার (১২৬৫৭ ভোট), কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মোঃ জিয়াউল কবির (১৩৯৭ ভোট), জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুব আলম (৪১২৫ ভোট), বাসদের মোঃ আব্দুল কাইয়ুম (১১৫৫ ভোট), জনতার দলের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম (৫৩৭ ভোট), ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী জিত বড়ুয়া (৪৪৪ ভোট), আপেল প্রতীকের প্রার্থী সরকার তাসলিমা আফরোজ (৪১৭ ভোট), মাছ প্রতীকের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম (২০০ ভোট), ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খান (২৪৫ ভোট) ও কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ রেজা (২৫০ ভোট)।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতীদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু নাছের খান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯২৫ ভোট।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর উপজেলা ও সদরের একাংশ) আসনে সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে পাচ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ইজাদুর রহমান চৌধুরী (২১,৯৬৩ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন (৬০৩৬ ভোট), মিনার প্রতিকের প্রার্থী মাওলানা শামীম আহমদ (২৩৩২ ভোট), জাতীয় পার্টির মো: নাজিম উদ্দিন (১৯৯৫ ভোট) ও মই প্রতিকের প্রার্থী আশিকুল ইসলাম পিয়াল (৪৮৪ ভোট)।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো: এহসানুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩৯ ভোট।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া উপজেলা) আসনে আট জন প্রার্থীর মধ্যে ছয় জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কাজিম উদ্দিন (২৩৪৮ ভোট), জাতীয় পার্টির এনামুল কবির, ফুটবল প্রতিকের প্রার্থী শফিউল্লাহ, কাস্তে প্রতিকের প্রার্থী মানবেন্দ্র দেব, প্রজাপতি প্রতিকের প্রার্থী জাকির হোসেন ও আম প্রতিকের প্রার্থী মনির হোসেন। এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আইউবী ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ৯০ হাজার ৩৯০ ভোট।
গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও পূবাইল একাংশ) আসনে সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- জনতার দলের প্রার্থী আজম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, জাতীয় পার্টির ডা. শফি উদ্দিন সরকার, চেয়ার প্রতিকের প্রার্থী আল আমিন দেওয়ান ও উদীয়মান সূর্য প্রতিকের প্রার্থী কাজল ভূঞা। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো: খায়রুল হাসান পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১২৩ ভোট।

