ঢাকা: দীর্ঘ দুই দশক পর এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলাদেশে। শেরে বাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে এক অনাড়ম্বর অথচ গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে শপথ নিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ দলটির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
জনরায়ের প্রতিফলন: সবার আগে বাংলাদেশ
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে এবারের নির্বাচনে বিএনপি যে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে, তার চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো আজকের এই শপথের মাধ্যমে। শপথ কক্ষে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের চোখে-মুখে ছিল আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসন লাভ করে এই বিশাল বিজয় নিশ্চিত করে।
শপথ অনুষ্ঠানের চিত্র
সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পেরিয়ে সংসদ সদস্যরা একে একে শপথ কক্ষে প্রবেশ করেন। শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদীয় বিধি অনুযায়ী শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তী ধাপ: সংসদ নেতা নির্বাচন ও নতুন মন্ত্রিসভা
শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সংসদ ভবনেই বিএনপির সংসদীয় দলের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্র মতে, এই বৈঠকেই জনাব তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।
এরপর আজ বিকেলেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
জনআকাঙ্ক্ষার নতুন যাত্রা
শপথ শেষে সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় একাধিক নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জানান, এই জয় জনগণের। তাদের মূল লক্ষ্য এখন বিধ্বস্ত রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন এবং একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপির এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত এই সংসদ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে অটল থেকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

