• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • অশ্ববর্ষের বার্তা: শক্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক বিশ্বমঞ্চে 

     swadhinshomoy 
    21st Feb 2026 12:36 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    আন্তর্জাতিক:
    সৃজনশীল গান ‘ফুলের দেবীকে বরণে’ ফুটে উঠেছে ঋতুচক্রের ছন্দ ও চীনা ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। ‘বসন্তের সূচনা’ গানটি তুলে ধরেছে নবজাগরণের প্রাণশক্তি। আর নৃত্য ‘পা দিয়ে তাল তৈরি’-তে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ছন্দের মিশ্রণ ঘটেছে। বিশ্বের প্রায় ৪,০০০ সংবাদমাধ্যম একযোগে এই অনুষ্ঠান সম্প্রচার ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিদেশি দর্শকদের মোট এনগেজমেন্ট ২.৪ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

    চীনা চান্দ্রপঞ্জিকার অশ্ববর্ষের বসন্ত উৎসব উপলক্ষে, চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) আয়োজিত ‘২০২৬ সালের বসন্ত উৎসব গালা’ বিশ্বব্যাপী চীনা ও বিদেশি বন্ধুদের জন্য শুভেচ্ছা ও উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়েছে। এটি বিশ্বের কাছে বসন্ত উৎসব ও চীনা সংস্কৃতির গভীর সৌন্দর্য তুলে ধরেছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এল ক্রনিস্টা মন্তব্য করেছে, “বসন্ত উৎসব গালা চীনের সামাজিক- অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয়েছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্প ও সাংস্কৃতিক প্রচার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।” স্পেনের সংবাদপত্র এল মুন্ডো-র ওয়েবসাইট মনে করে, “এই গালার তাৎপর্য শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জাতীয় বর্ণনার এক দর্পণ: যা ঐক্য, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির কথা বলে।”

    চীনা জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী উৎসব হিসেবে বসন্ত উৎসবের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য আন্তর্জাতিক সমাজে ক্রমশ স্বীকৃতি পাচ্ছে। এটি ‘নববর্ষের সূচনা, সর্বত্র নবজাগরণ’-এর শুভ বার্তা বহন করে। পাশাপাশি এটি পারিবারিক মিলন, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মূল্যবোধ সঞ্চার করে, যা মানবজাতির সার্বজনীন আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বিশ্ব যখন অস্থির, তখন বসন্ত উৎসব বিশ্বব্যাপী সংলাপ ও আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করছে।

    অশ্ববর্ষের বসন্ত উৎসবটি হলো ‘বসন্ত উৎসব: চীনা ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উদযাপনের সামাজিক অনুশীলন’ শীর্ষক ইউনেস্কোর মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় বসন্ত উৎসব। চীনা সংস্কৃতিতে ঘোড়া হলো শক্তি ও অদম্যতার প্রতীক, যা স্থিতিশীল অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

    একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসন্ত উৎসবের মেলা, আলোক প্রদর্শনীসহ নানা রঙিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চীনা সংস্কৃতিকে আরও বেশি আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় ‘অশ্বের দ্রুত গতি’ থিমে বসন্ত উৎসবের জমকালো আলোক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়; বেলজিয়ামের ব্রাসেলস আর্ট সেন্টারে চীনা সঙ্গীতজ্ঞরা চমৎকার লোকসংগীত পরিবেশন করেন; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘চীনা স্বাদ’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা চীনা ক্যালিগ্রাফি অনুশীলনে আগ্রহ নিয়ে অংশ নেন; নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে বসন্ত উৎসব উদযাপন করেন; চীনে বসন্ত উৎসবের অভিজ্ঞতা নেওয়া বিদেশি পর্যটকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনুভূতি তুলে ধরছেন। পাকিস্তান অবজারভার মনে করে, বসন্ত উৎসবের উদযাপন ক্রমশ বিশ্বের আরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত হচ্ছে, যা বর্তমান বিশ্বে একটি প্রাচীন সভ্য দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরে।

    বসন্ত উৎসব যে বিশ্বকে উষ্ণতা দিচ্ছে, তা আকস্মিক নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও বিশ্বের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং চীনা ও বিদেশি সভ্যতার সংমিশ্রণ ও পারস্পরিক শিক্ষার ফলে চীন সম্পর্কিত ‘সাড়া জাগানো’ আন্তঃসাংস্কৃতিক প্রচারের ঘটনা ক্রমশ বেড়েছে। গেম ব্ল্যাক মিথ: উকং-এর উচ্চ প্রশংসা থেকে শুরু করে সিনেমা নেজা ২-এর বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এবং ডিজিটাল তুনহুয়াং-এর বিদেশি ভক্ত তৈরি হওয়া—সবই প্রমাণ করে যে, চীনাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় চীনের চমৎকার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ক্রমশ গতিশীল ও আধুনিক হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তা সহজে অনুভূত ও বোধগম্য হচ্ছে।

    অস্থির বিশ্বে চীন উচ্চমানের উন্নয়ন প্রচার ও উন্মুক্ততা সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখে বিশ্বের জন্য মূল্যবান স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা নিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক সমাজের কাছ থেকে ইতিবাচক ধারণা ও স্বীকৃতি অর্জন করছে। আরও বেশি আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব চীনকে গভীরভাবে জানতে আগ্রহী হচ্ছেন, যা বিদেশে ‘চীন-প্রীতি’ ও ‘চীনা সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ’ বাড়াচ্ছে।

    ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জনমত জরিপ সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত একটি বিশ্বব্যাপী জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী জনগণের চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। জরিপকৃত ১৫টি দেশে চীনের প্রতি অনুকূল ধারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিসা-মুক্ত প্রবেশ নীতির কারণে অনেক বিদেশি নাগরিক চীনে ভ্রমণ করে চীন ও তার সংস্কৃতির সৌন্দর্য প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করছেন, যা বিশ্বের কাছে চীনকে পূর্ণাঙ্গ ও বহুমাত্রিকভাবে জানতে সহায়তা করছে।

    অশ্ববর্ষের বসন্ত শুরু হয়েছে, সবাই মিলে চীনা নববর্ষ উদযাপন করছে। চীনা সভ্যতার প্রচারিত সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং পার্থক্য বজায় রেখেও ঐক্য বজায় রাখার ধারণাগুলো সময়ের সীমানা অতিক্রম করে মূল্যবান হয়ে উঠছে এবং বিশ্বের কাছ থেকে আরও বেশি সম্মান ও স্বীকৃতি পাচ্ছে। আশা করা যায়, মানুষ হাত মিলিয়ে বোঝাপড়া ও আদান-প্রদান বাড়াবে, ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘাত দূর করবে এবং বিশ্বের জন্য অশ্ববর্ষের নতুন প্রেরণা নিয়ে আসবে। এভাবেই সবাই একসঙ্গে আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

    সূত্র:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    February 2026
    S M T W T F S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728