রেজাউল করিম
কক্সবাজার জেলা স্টাফ রিপোর্ট
কক্সবাজার শহরের কলাতলি আদর্শ গ্রামে অবস্থিত একটি গ্যাস পাম্পে হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (তারিখ প্রযোজ্য) সন্ধ্যার দিকে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শোনা যায়। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের পরপরই পাম্প এলাকায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা মাইকিং করে আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অনেককে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একাধিক ইউনিট। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সময় পাম্প এলাকায় থাকা একাধিক গ্যাস সিলিন্ডারেও বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। আশপাশে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনের বিস্তার রোধে চারপাশে পানি ছিটিয়ে সুরক্ষা বলয় তৈরির চেষ্টা করছেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
গ্যাস সংকট নাকি কৃত্রিম সংকট—জনমনে প্রশ্ন
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কক্সবাজারে যেখানে সাধারণ মানুষ প্রায়ই রান্নার গ্যাসের সংকটে ভোগেন, সেখানে একটি গ্যাস পাম্পে বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার মজুত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বাজারে বর্তমানে একটি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৭০০ টাকার বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একদিকে সরবরাহ সংকটের কথা বলা হয়, অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুত ও মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ—এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে “কৃত্রিম সংকট” বা সিন্ডিকেটের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, জেলার সকল গ্যাস পাম্প ও গ্যাসের দোকানের আশেপাশের গুদামে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। মজুত পরিস্থিতি, লাইসেন্স, নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা—তা কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।
তদন্তে প্রশাসন
বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ বা সংরক্ষণে ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নগরবাসীর দাবি—এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য গ্যাস পাম্প ও গুদামগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সামান্য অসাবধানতাই বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে জানানো হবে।

